০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যুর আগে যা বলেছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 207

সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন অর রশিদ। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউস মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদের। তবে মৃত্যুর আগে তিনি নিজের শেষ ৩টি ইচ্ছার কথা বলেছিলেন।

চট্টগ্রাম ক্লাবে গেস্ট হাউসে ডাক্তার জহির গণমাধ্যমকে জানান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বাহার তাকে ফোন করে প্রথম সাবেক সেনাপ্রধানের মৃত্যুর খবর জানান। তখন তিনি বলেছিলেন, মাসখানেক আগে হারুন তার শেষ ৩টি ইচ্ছার কথা বলেছিলেন।

‘ওই তিন ইচ্ছা হলো – ১) মৃত্যুর পর তার মরদেহখানা দাফন করতে যাতে দেরি না করা হয়, ২) পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবার পাশে যেন তাকে দাফন করা হয় এবং ৩) মৃত্যুর পর তার মরদেহকে রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মান দেওয়া না হয়।’

ডাক্তার জহির বলেন, ‘আমি উত্তরে কর্নেল বাহারকে সাবেক সেনা প্রধানের শেষ ৩টি ইচ্ছে তার সহধর্মিণী ও মেয়েকে জানাতে অনুরোধ করি।’

 

আরও পড়ুন : সাবেক সেনাপ্রধানের মরদেহ উদ্ধার

এনাম আহমেদ নামে হারুন উর রশিদের এক আত্মীয় জানান, ডেসটিনির আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় হাজিরা দিতে রোববার চট্টগ্রাম আসেন সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদ। পরে রাতে হয়তো স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এম হারুন উর রশীদ একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি দেশের দশম সেনাপ্রধান ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর ডেসটিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ডেসটিনি বিষয়ক মামলাতে তিনি জেলও খেটেছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন অর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে তিনি ক্লাবের গেস্ট হাউজে এসে ওঠেন। সেখানেই আজ সোমবার সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

হারুন উর রশিদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তবে তিনি ঢাকায় বাস করতেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

 

আরও পড়ুন : হঠাৎ শিবির ও এনসিপির মধ্যে বিরোধ কেন

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন জানান, রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি ভিআইপি কক্ষে ওঠেন। ঘণ্টাখানেক পর তিনি রুম থেকে বের হন এবং রাত ১১টার দিকে আবার ফিরে আসেন।

‘কিন্তু পরদিন সকাল ১০ বেজে গেলেও দরজা খোলেননি। পরে স্টাফরা পেছনের জানালা দিয়ে দেখতে পান, তিনি নিথর অবস্থায় বিছানায় পরে আছেন,’ বলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মৃত্যুর আগে যা বলেছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউস মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদের। তবে মৃত্যুর আগে তিনি নিজের শেষ ৩টি ইচ্ছার কথা বলেছিলেন।

চট্টগ্রাম ক্লাবে গেস্ট হাউসে ডাক্তার জহির গণমাধ্যমকে জানান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বাহার তাকে ফোন করে প্রথম সাবেক সেনাপ্রধানের মৃত্যুর খবর জানান। তখন তিনি বলেছিলেন, মাসখানেক আগে হারুন তার শেষ ৩টি ইচ্ছার কথা বলেছিলেন।

‘ওই তিন ইচ্ছা হলো – ১) মৃত্যুর পর তার মরদেহখানা দাফন করতে যাতে দেরি না করা হয়, ২) পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবার পাশে যেন তাকে দাফন করা হয় এবং ৩) মৃত্যুর পর তার মরদেহকে রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মান দেওয়া না হয়।’

ডাক্তার জহির বলেন, ‘আমি উত্তরে কর্নেল বাহারকে সাবেক সেনা প্রধানের শেষ ৩টি ইচ্ছে তার সহধর্মিণী ও মেয়েকে জানাতে অনুরোধ করি।’

 

আরও পড়ুন : সাবেক সেনাপ্রধানের মরদেহ উদ্ধার

এনাম আহমেদ নামে হারুন উর রশিদের এক আত্মীয় জানান, ডেসটিনির আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় হাজিরা দিতে রোববার চট্টগ্রাম আসেন সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদ। পরে রাতে হয়তো স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এম হারুন উর রশীদ একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত তিনি দেশের দশম সেনাপ্রধান ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর ডেসটিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ডেসটিনি বিষয়ক মামলাতে তিনি জেলও খেটেছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন অর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে তিনি ক্লাবের গেস্ট হাউজে এসে ওঠেন। সেখানেই আজ সোমবার সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

হারুন উর রশিদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তবে তিনি ঢাকায় বাস করতেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

 

আরও পড়ুন : হঠাৎ শিবির ও এনসিপির মধ্যে বিরোধ কেন

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন জানান, রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি ভিআইপি কক্ষে ওঠেন। ঘণ্টাখানেক পর তিনি রুম থেকে বের হন এবং রাত ১১টার দিকে আবার ফিরে আসেন।

‘কিন্তু পরদিন সকাল ১০ বেজে গেলেও দরজা খোলেননি। পরে স্টাফরা পেছনের জানালা দিয়ে দেখতে পান, তিনি নিথর অবস্থায় বিছানায় পরে আছেন,’ বলেন তিনি।