০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুকে প্রেম, বিয়ে—শেষে চাঞ্চল্যকর সত্য! ‘নববধূ’ আসলে পুরুষ!

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • 75

প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে—সবই ছিল গল্পের মতো। কিন্তু রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সেই গল্প পরিণত হয়েছে বিস্ময়কর এক নাটকে। দেড় মাস ঘর-সংসার করার পর একদিন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে সব—কারণ, নতুন বউ ‘সামিয়া’ আসলে একজন পুরুষ!

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান শান্ত ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হন ‘সামিয়া’ নামের এক তরুণীর সঙ্গে। কথাবার্তা, যোগাযোগ, প্রেম—সবই চলে দীর্ঘদিন। এরপর ৭ জুন, ‘সামিয়া’ শান্তর বাড়িতে চলে আসে। পরিবারের সম্মতিতে, ধর্মীয় রীতিতে বিয়েও সম্পন্ন হয়, স্থানীয়রা ছিলেন সাক্ষী।

দেড় মাস কেটে যায়। এই সময় জুড়ে ‘সামিয়া’ সংসার করছিল শান্তর পরিবারের সঙ্গে। কেউ বিন্দুমাত্র টের পায়নি, তার পরিচয়ে কোনো গড়মিল আছে। তবে সম্প্রতি কিছু অস্বাভাবিক আচরণ পরিবারের নজরে আসে। একপর্যায়ে শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রকাশ পায় ভয়াবহ সত্য—সামিয়া আসলে একজন পুরুষ, নাম মো. শাহিনুর রহমান, বাড়ি চট্টগ্রামের আমতলা ঈদগাহ বৌবাজারে, বাবা আবুল কাশেম।

আরও পড়ুন : মাত্র ১৭৫ দিনে কোরআনের হাফেজ হলেন শিশু তানভীর

শান্তর মা মোছা. সোহাগী বেগম বলেন, “একজন পুরুষ আমাদের পরিবারের বউ হয়ে দেড় মাস থেকেছে! অথচ আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। সে এমনভাবে অভিনয় করত, যেন জন্ম থেকেই মেয়ে।”

মাহমুদুল হাসান শান্ত জানান—“ফেসবুকে সামিয়ার সঙ্গে প্রেম হয়। সে হঠাৎ একদিন বাড়িতে চলে আসে। পরিবারের সিদ্ধান্তেই বিয়ে হয়। তবে তার কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না, তাই রেজিস্ট্রার হয়নি। বিয়ের পর থেকেই তার আচরণ সন্দেহজনক লাগছিল। কাছে যেতে চাইলে বলত—অসুস্থ, ডাক্তার নিষেধ করেছে।”

ধরা পড়ার পর শাহিনুর ওরফে ‘সামিয়া’ বলেন—“আমি যা করেছি, সেটা আমার ভুল। আমার **হরমোনজনিত সমস্যা** আছে। আমি নিজেকে মেয়ে ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে শাহিনুরকে তার বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে এলাকাবাসী বলছেন—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ফেসবুকে প্রেম, বিয়ে—শেষে চাঞ্চল্যকর সত্য! ‘নববধূ’ আসলে পুরুষ!

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে—সবই ছিল গল্পের মতো। কিন্তু রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সেই গল্প পরিণত হয়েছে বিস্ময়কর এক নাটকে। দেড় মাস ঘর-সংসার করার পর একদিন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে সব—কারণ, নতুন বউ ‘সামিয়া’ আসলে একজন পুরুষ!

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান শান্ত ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হন ‘সামিয়া’ নামের এক তরুণীর সঙ্গে। কথাবার্তা, যোগাযোগ, প্রেম—সবই চলে দীর্ঘদিন। এরপর ৭ জুন, ‘সামিয়া’ শান্তর বাড়িতে চলে আসে। পরিবারের সম্মতিতে, ধর্মীয় রীতিতে বিয়েও সম্পন্ন হয়, স্থানীয়রা ছিলেন সাক্ষী।

দেড় মাস কেটে যায়। এই সময় জুড়ে ‘সামিয়া’ সংসার করছিল শান্তর পরিবারের সঙ্গে। কেউ বিন্দুমাত্র টের পায়নি, তার পরিচয়ে কোনো গড়মিল আছে। তবে সম্প্রতি কিছু অস্বাভাবিক আচরণ পরিবারের নজরে আসে। একপর্যায়ে শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রকাশ পায় ভয়াবহ সত্য—সামিয়া আসলে একজন পুরুষ, নাম মো. শাহিনুর রহমান, বাড়ি চট্টগ্রামের আমতলা ঈদগাহ বৌবাজারে, বাবা আবুল কাশেম।

আরও পড়ুন : মাত্র ১৭৫ দিনে কোরআনের হাফেজ হলেন শিশু তানভীর

শান্তর মা মোছা. সোহাগী বেগম বলেন, “একজন পুরুষ আমাদের পরিবারের বউ হয়ে দেড় মাস থেকেছে! অথচ আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। সে এমনভাবে অভিনয় করত, যেন জন্ম থেকেই মেয়ে।”

মাহমুদুল হাসান শান্ত জানান—“ফেসবুকে সামিয়ার সঙ্গে প্রেম হয়। সে হঠাৎ একদিন বাড়িতে চলে আসে। পরিবারের সিদ্ধান্তেই বিয়ে হয়। তবে তার কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না, তাই রেজিস্ট্রার হয়নি। বিয়ের পর থেকেই তার আচরণ সন্দেহজনক লাগছিল। কাছে যেতে চাইলে বলত—অসুস্থ, ডাক্তার নিষেধ করেছে।”

ধরা পড়ার পর শাহিনুর ওরফে ‘সামিয়া’ বলেন—“আমি যা করেছি, সেটা আমার ভুল। আমার **হরমোনজনিত সমস্যা** আছে। আমি নিজেকে মেয়ে ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে শাহিনুরকে তার বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে এলাকাবাসী বলছেন—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।