ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের খোরামাবাদ শহরে অবস্থিত ফালাক-অল-আফলাক দুর্গ (Falak-ol-Aflak Castle)। ফালাকুল আফলাক অর্থ “আকাশের সাত স্তর” বা সাত আসমান। অর্থাৎ এই দুর্গের বাংলা নাম দাঁড়ায় সাত আসমান দুর্গ। এটি ইরানে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শন। দুর্গটি ইরানের সবচেয়ে পরিচিত প্রত্নতাত্ত্বিক ও পর্যটন আকর্ষণগুলোর একটি।
খুররামাবাদ শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ৪০ মিটার উঁচু টিলায় ওপর ১৫০০ বছর আগে এই দুর্গটি নির্মিত হয়। সাসানীয় শাসনামলে ৬৫১ সালে তৈরি এই দুর্গটি ইতোমধ্যে অনেকবার মেরামত করা হয়েছে।
প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক ইরানি ও বিদেশি পর্যটক দুর্গ দেখতে যান। রাতের বেলায় যখন ফ্লাডলাইট জ্বালানো হয় তখন এক বিশেষ মনোরম এবং নাটকীয় দৃশ্য তৈরি হয়। দুর্গের চারিদিকে ঘেরা সরু যুদ্ধের মনোরম দৃশ্য সবার নজর কাড়ে।
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ফালাকুল আফলাক দুর্গটি বেশিরভাগ সময়ই বিভিন্ন রাজাদের সরকারি ঘাঁটি ছিল এবং ইতিহাসের কিছু সময়কালে এটি একটি কারাগার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
পরবর্তীতে ইসলামি শাসনামলে এটি নানা উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়—বিশেষ করে কারাগার ও অস্ত্রাগার হিসেবে। পাশের নদী ও পাহাড়ের কারণে দুর্গটি প্রতিরক্ষা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।
আরও পড়ুন : ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ভুল ছিল : রবার্ট ম্যালি
৫ হাজার ৩০০ বর্গমিটার আয়তনের ‘ফালাকুল আফলাক’ দুর্গটি পাথর, ইট, কাঁচা মাটি, প্লাস্টার ও চুন দিয়ে নির্মাণ করা হয়। দুর্গটি ‘খোররাম আবাদ দুর্গ’ নামেও পরিচিত। দুর্গটিতে একটি বড় মিলনায়তন, দুটিটি নির্জন প্রাঙ্গণ, কয়েকটি ছোট হল রুম নিয়ে গঠিত।
১০ হেক্টর এলাকা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্বে নদীর উপকূলরেখার প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীরগুলো এই দুর্গের চারপাশে ঢেকে দিয়েছে। যারা ইরানে পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের স্থান এই দুর্গ।
জাতীয় নিবন্ধনের পাশাপাশি এই দুর্গটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছে।
ঢাকা ডেস্ক 









