দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী এই পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।
গত ৩০ জুন মোট রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ২৪ দিনের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম৬ পদ্ধতিতেও একই সময়ে রিজার্ভ কমেছে ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন : ভাইরাল সেই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৪ পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাইয়ের শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) মে ও জুন মাসের আমদানি বকেয়া বাবদ ২০১ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়। এতে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে। আর আইএমএফের হিসাবে তা হয় ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো বাড়িয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পণ্য রপ্তানিতেও হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ১০ মাসে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করায় রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমেছে। বাজেট সহায়তা ও বহুপাক্ষিক ঋণের অর্থ আসা শুরু হওয়ায় রিজার্ভে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, ফলে বিনিময় হার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নিলামের মাধ্যমে কিছু ডলার কিনেছে—যা বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা ডেস্ক 









