কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে রূপ নেয়, তখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার—এমন তথ্য উঠে এসেছে আলজাজিরার এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি, “সারারাত জেগে থাকি…।”
আলজাজিরার ৫০ মিনিটের ওই প্রতিবেদনে ছাত্রলীগ নেতাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে হাসিনার একাধিক ফোনালাপ প্রকাশ পেয়েছে। একটিতে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতা শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে হাসিনা বলেন, “দক্ষিণে বলে দিয়েছি—যা দরকার তাই করতে।”
সেই সময় ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালান তিনি। অথচ তার কণ্ঠেই উঠে আসে উদ্বেগ আর দিশাহীনতার সুর।
আরও পড়ুন : আইফোন কেনার টাকার জন্য অপহরণ-ধর্ষণের নাটক!
প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ, হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন। বলেন, “আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি… যেখানেই পাবে গুলি চালাবে।”
ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনালাপে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। যদিও সরকার এ দাবি অস্বীকার করেছে, তবু ঢাকার পপুলার মেডিকেলের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, “হেলিকপ্টার থেকে হাসপাতালের দিকে গুলি ছোড়া হয়েছিল।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলছে, শেখ হাসিনা, তার কয়েকজন মন্ত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের ভাষ্য, “তিনি (হাসিনা) জানতেন ফোন রেকর্ড হচ্ছে। তবু বলতেন, সমস্যা নেই।”
১৫ বছরের শাসন শেষে, ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলনের চাপে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। আলজাজিরার এই অনুসন্ধান সেই অন্ধকার রাতগুলোরই এক অমোঘ চিত্র আঁকে।
রিপোর্টার 









