০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ে না করা ম্যাডাম মাসুকার সন্তান ছিল ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • 215

শিক্ষার্থীদের সাথে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মাসুকা বেগম নিপু । ছবি : সংগৃহীত।

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক শিক্ষিকা মাসুকা বেগম নিপু নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জানা গেছে, মাসুকা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চিলোকুট গ্রামের সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর মেয়ে। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি শাখার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ছিলেন মাসুকা বেগম। স্কুলের বাচ্চাদেরকেই তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। তাই তো বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিজে বের হয়ে আসতে পারলেও, বের হননি তিনি।

আগুনের মধ্যে নিজেকে পুড়িয়ে ক্লাস থেকে একে একে বের করেছেন অনেক শিক্ষার্থীকে। এক পর্যায়ে নিজে দগ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান রুমের ভেতর। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

মাসুকা বেগমের স্বজনরা জানান, বিমানটি বিধ্বস্তের সময় মাসুকা বেগম ক্লাসে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের আগুন থেকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন তিনি। তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

দগ্ধ অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে মাসুকা বেগমের মরদেহ বড় বোন পাপড়ি রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন : এইচএসসির স্থগিত হওয়া দুই পরীক্ষা একই দিনে হবে 

স্বজনরা আরও জানান, হাসপাতালে পাশের বেডে চিকিৎসাধীন আরেক শিক্ষককে মাসুকা বেগম তার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, মৃত্যুর পর যেন তাকে বড় বোনের বাড়িতে দাফন করা হয়।

তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ সোহাগপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বিয়ে না করা ম্যাডাম মাসুকার সন্তান ছিল ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক শিক্ষিকা মাসুকা বেগম নিপু নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জানা গেছে, মাসুকা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চিলোকুট গ্রামের সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর মেয়ে। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি শাখার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ছিলেন মাসুকা বেগম। স্কুলের বাচ্চাদেরকেই তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। তাই তো বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিজে বের হয়ে আসতে পারলেও, বের হননি তিনি।

আগুনের মধ্যে নিজেকে পুড়িয়ে ক্লাস থেকে একে একে বের করেছেন অনেক শিক্ষার্থীকে। এক পর্যায়ে নিজে দগ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান রুমের ভেতর। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

মাসুকা বেগমের স্বজনরা জানান, বিমানটি বিধ্বস্তের সময় মাসুকা বেগম ক্লাসে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের আগুন থেকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন তিনি। তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

দগ্ধ অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে মাসুকা বেগমের মরদেহ বড় বোন পাপড়ি রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন : এইচএসসির স্থগিত হওয়া দুই পরীক্ষা একই দিনে হবে 

স্বজনরা আরও জানান, হাসপাতালে পাশের বেডে চিকিৎসাধীন আরেক শিক্ষককে মাসুকা বেগম তার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, মৃত্যুর পর যেন তাকে বড় বোনের বাড়িতে দাফন করা হয়।

তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ সোহাগপুর গ্রামে দাফন করা হয়।