মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও এখনও পুরুষদের মানসিক সমস্যা অনেকটাই আড়ালে রয়ে গেছে। পুরুষরা যেমন সহজে নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করেন না, তেমনি চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীরবতার ফল ভয়াবহ হতে পারে। গবেষণা বলছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহত্যার হার প্রায় ৩.৫ গুণ বেশি। কারণ, তারা সাধারণত প্রাণঘাতী পদ্ধতি বেছে নেয়, আবার সহায়তা চাওয়ার প্রবণতাও কম।
কেন ভিন্ন পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য?
সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘পুরুষালি’ মানসিকতা—যেমন “ছেলে মানুষ কাঁদে না”, “তোমাকেই সব সামলাতে হবে”—এই চাপগুলো পুরুষদের মধ্যে মানসিক সংকট তৈরি করে। এর ফলে তারা চুপ করে থাকেন, একাকিত্বে ভোগেন, এমনকি কখনও মাদক বা অ্যালকোহলের আশ্রয় নেন।
আরও পড়ুন : ভবনে আগুন লাগলে কী করবেন: জানুন জীবন বাঁচানোর জরুরি করণীয়
যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি
- হঠাৎ রেগে যাওয়া
- ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন
- বিষণ্নতা বা একাকিত্বের অনুভূতি
- মাদক বা অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি
- আত্মহত্যার চিন্তা বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ
কারা বেশি ঝুঁকিতে
বয়স্ক পুরুষ, কর্মহীন বা চাকরিচ্যুত ব্যক্তি, বিচ্ছিন্ন বা একাকী জীবন যাপনকারীরা এবং যারা ভয়াবহ ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন, তারা মানসিক সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, থেরাপি, ওষুধ ও নিয়মিত জীবনযাপনের মাধ্যমে পুরুষদের মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পরিবার, বন্ধু ও সমাজের উচিত তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানো।
পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য আর লজ্জার বিষয় নয়। এখন সময় এসেছে—চুপ থাকা নয়, সাহস করে কথা বলার। আপনি কিংবা আপনার কাছের কেউ যদি মানসিক চাপে ভোগেন, দেরি না করে পেশাদারের সাহায্য নিন।
ঢাকা ডেস্ক 















