রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজদের হস্তক্ষেপে থমকে গেছে গুরুত্বপূর্ণ লিফট স্থাপনের কাজ। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ নিয়ে ইতোমধ্যেই জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হুমকির মুখে রয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মী ও নির্মাণ সামগ্রীর নিরাপত্তাও।
সম্প্রতি রাজবাড়ীর অফিসার ক্লাবে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উঠে আসে এ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সেখানে রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের লিফট স্থাপনে বারবার চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঠিকাদারদের ওপর ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একাধিকবার ঠিকাদারকে চাঁদা দিতে হয়েছে। এক গ্রুপ টাকা নেয়, তারপর আরেক গ্রুপ এসে দাবি তোলে। এতে কাজের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।‘
আরও পড়ুন : বিতর্কের মুখে শিশু হাসপাতালের সেই ৬৫ চিকিৎসকের নিয়োগ বাতিল
অবস্থার ভয়াবহতা বোঝাতে প্রকৌশল বিভাগ কর্তৃক পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো দুটি চিঠির কথাও উঠে আসে আলোচনায়। এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি দিনে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নির্মাণসাইটে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে এবং মালামাল লুটের চেষ্টা চালায়। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্পে কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম জানান, ‘চাঁদাবাজির ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজবাড়ীতে কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।’
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজবাড়ীর নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শঙ্কর ঝন্টু। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল রাষ্ট্রের সবচেয়ে মানবিক একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে চাঁদাবাজি চলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রোগীদের চাপ ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার একটি লিফট প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা চাঁদাবাজদের কারণে বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









