মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় কর্মরত এক সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে ছাত্রী ও নারী সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান ইতোমধ্যেই নিজের দায় স্বীকার করে তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন, ‘আমি অন্যায় করেছি, শাস্তি পেতে রাজি’, যদিও অভিযোগের একটি অংশকে তিনি ‘ইয়ার্কি-ফাইজলামি’ বলেও দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে আপত্তিকর বার্তা ও কুপ্রস্তাব পাঠিয়েছেন। শুধু শিক্ষার্থী নয়, তার বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীর প্রতিও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর পরিবার জানায়, মেয়েটির বয়স মাত্র ১৩ বছর। সে সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটি বলছে, এই ঘটনার পর থেকে মেয়েটি চরম মানসিক ভাঙন ও ভীতির মধ্যে রয়েছে।
ছাত্রীদের পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার (১৩ জুলাই) ও মঙ্গলবার, সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান সোহাগ বরাবর পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন : গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় ফেসবুকে ট্রল, এএসপি প্রত্যাহার
পরবর্তীতে গঠিত হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, যার প্রধান করা হয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আব্দুল্লাহ বিন শফিককে। তিনি জানান, উভয়পক্ষকে নিয়ে বৃহস্পতিবার তদন্তে বসা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা সময় চেয়েছেন। তদন্ত এখনো চলমান।
নিজ দোষ স্বীকার করে মনিরুজ্জামান খান বলেন,“তদন্তে আমি আমার দোষ স্বীকার করেছি, না করার উপায় নেই। অন্য ক্ষেত্র হলে হয়তো ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়তো। কিন্তু এখানে সেটা সম্ভব না। আমি অন্যায় করেছি, ডিপার্টমেন্ট আমাকে শাস্তি দেবে।”
তবে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এক নারী সহকর্মীর সাথে বাজে আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“ওটা ইয়ার্কি-ফাইজলামি করেছিলাম। পরে বুঝে নিয়েছি, সংশোধন করে ফেলেছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহাগ বলেন,“অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা ডেস্ক 









