১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পা ভাঙার যন্ত্রণার মাঝেও কর্মসূচির প্রতি দায়বদ্ধতা নওরীনের

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • 70

ছাত্রদলের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। সৌজন্য ছবি

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় সোমবার (১৪ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পদদলিত হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার পায়ে প্লাস্টার করে এক মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মিছিলটি শুরু হয়। নাইটিঙ্গেল মোড়ে রোড ডিভাইডারের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ায় হঠাৎই পেছন থেকে নেতাকর্মীদের চাপ বেড়ে যায়। এ সময় এক কর্মী হঠাৎ পড়ে গেলে তার ওপর পড়ে যান নওরীনও। পরে পেছন থেকে আসা কর্মীদের ধাক্কায় পদদলিত হন তিনি।

নওরীনের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া ছাত্রদল নেত্রী ফারহানা বিনতে ইভা বলেন, “দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে নওরীন আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। তখনই পেছন থেকে নেতাকর্মীদের চাপে সে পদদলিত হয়। পরে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

আরও পড়ুন : শিবিরের গুপ্ত কর্মীরা ছাত্রদলের বিপক্ষে ‘মব’ সৃষ্টি করছে

হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে কথা বললে নওরীন বলেন, “পা ভেঙেছে—এই কষ্ট আমার কাছে বড় নয়। বরং দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারাটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় দুঃখ।”

তিনি আরও বলেন, “এই পুরো মাস জুড়েই দলের নানা কর্মসূচি রয়েছে। বিএনপিকে কেন্দ্র করে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এমন সময় আমি বিছানায় পড়ে থাকব, এটা ভাবতেই পারছি না।”

প্রসঙ্গত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের পাঁয়তারা, গুপ্ত সংগঠনের মব সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সোমবার এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ছাত্রদল। মিছিলটি নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব, কার্জন হল, টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন কলেজ, ইউনিট ও থানার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা ‘জামায়াত-শিবির-রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’, ‘পিন্ডি যাবে রাজাকার, দিল্লি গেছে স্বৈরাচার’ ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন।

 

আরও পড়ুন : নওরীনের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের আদেশ

এর আগে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে একটি গুপ্ত সংগঠন কথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের মাধ্যমে ছাত্রদলের বিপক্ষে ‘মব’ সৃষ্টি করেছে।

নাছির বলেন, গত এক সপ্তাহে আরও কয়েকটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড হলেও এগুলো নিয়ে গুপ্ত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোনো শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করছেন না। শুধু মিটফোর্ডের ঘটনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। এমনকি তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামেও বিভিন্ন ‘প্রোপাগান্ডা’ (অপপ্রচার) চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাছির উদ্দিন বলেন, এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

পা ভাঙার যন্ত্রণার মাঝেও কর্মসূচির প্রতি দায়বদ্ধতা নওরীনের

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় সোমবার (১৪ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পদদলিত হন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার পায়ে প্লাস্টার করে এক মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মিছিলটি শুরু হয়। নাইটিঙ্গেল মোড়ে রোড ডিভাইডারের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ায় হঠাৎই পেছন থেকে নেতাকর্মীদের চাপ বেড়ে যায়। এ সময় এক কর্মী হঠাৎ পড়ে গেলে তার ওপর পড়ে যান নওরীনও। পরে পেছন থেকে আসা কর্মীদের ধাক্কায় পদদলিত হন তিনি।

নওরীনের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া ছাত্রদল নেত্রী ফারহানা বিনতে ইভা বলেন, “দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে নওরীন আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। তখনই পেছন থেকে নেতাকর্মীদের চাপে সে পদদলিত হয়। পরে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

আরও পড়ুন : শিবিরের গুপ্ত কর্মীরা ছাত্রদলের বিপক্ষে ‘মব’ সৃষ্টি করছে

হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে কথা বললে নওরীন বলেন, “পা ভেঙেছে—এই কষ্ট আমার কাছে বড় নয়। বরং দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারাটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় দুঃখ।”

তিনি আরও বলেন, “এই পুরো মাস জুড়েই দলের নানা কর্মসূচি রয়েছে। বিএনপিকে কেন্দ্র করে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এমন সময় আমি বিছানায় পড়ে থাকব, এটা ভাবতেই পারছি না।”

প্রসঙ্গত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের পাঁয়তারা, গুপ্ত সংগঠনের মব সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সোমবার এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ছাত্রদল। মিছিলটি নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব, কার্জন হল, টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন কলেজ, ইউনিট ও থানার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা ‘জামায়াত-শিবির-রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’, ‘পিন্ডি যাবে রাজাকার, দিল্লি গেছে স্বৈরাচার’ ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন।

 

আরও পড়ুন : নওরীনের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হাইকোর্টের আদেশ

এর আগে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে একটি গুপ্ত সংগঠন কথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের মাধ্যমে ছাত্রদলের বিপক্ষে ‘মব’ সৃষ্টি করেছে।

নাছির বলেন, গত এক সপ্তাহে আরও কয়েকটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড হলেও এগুলো নিয়ে গুপ্ত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোনো শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করছেন না। শুধু মিটফোর্ডের ঘটনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। এমনকি তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামেও বিভিন্ন ‘প্রোপাগান্ডা’ (অপপ্রচার) চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাছির উদ্দিন বলেন, এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে