০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভাত খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি? জানালেন পুষ্টিবিদ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • 108

ভাত—বাঙালির খাবার তালিকায় অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য উপাদান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত না থাকলে অনেকেরই যেন খাওয়াই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভাতে রয়েছে শক্তির যোগানদাতা কার্বোহাইড্রেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে ভাত খাওয়ার সঠিক সময় ও চালের ধরন সম্পর্কে জানা থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে আরও উপকারী।

সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ দেবজানি ব্যানার্জি জানিয়েছেন, দিনভর কাজের জন্য শক্তি প্রয়োজন হয়, আর সেই প্রয়োজন মেটাতেই সঠিক সময়ে ভাত খাওয়া জরুরি। তার মতে, দুপুর হলো ভাত খাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময়।

কেন দুপুরে ভাত খাওয়াই ভালো?

দেবজানির মতে, দুপুরবেলা মানুষের বিপাকক্রিয়া সবচেয়ে সক্রিয় থাকে, ফলে সে সময় খাওয়া ভাত সহজে হজম হয়। বিশেষ করে ধূসর, বাদামি বা লাল চালের ভাতে থাকা ভিটামিন বি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া এই চালগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

আরও পড়ুন : বর্ষায় দই খাওয়া কেন ক্ষতিকর?

কোন চাল বেশি উপকারী?

সাদা চালের তুলনায় বাদামি বা লাল চালে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ বেশি থাকে। সাদা চাল বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, বাদামি চাল ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহ করে।

ক্যালোরির পার্থক্য:

  • সাদা চাল (রান্না করা) প্রতি ১০০ গ্রামে: প্রায় ১৩০ ক্যালোরি
  • বাদামি চাল (রান্না করা) প্রতি ১০০ গ্রামে: প্রায় ১১০ ক্যালোরি

যদিও সাদা চালের ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি, তবে বাদামি চালে থাকা অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাতে ভাত খাওয়া কি ঠিক?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাতে ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়, বিশেষত যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। কারণ, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত শক্তি দেয় বটে, তবে রাতের খাবার হিসেবে তা অতিরিক্ত ক্যালোরি সরবরাহ করে এবং হজম হতে সময় নেয়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ভাত খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি? জানালেন পুষ্টিবিদ

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

ভাত—বাঙালির খাবার তালিকায় অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য উপাদান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত না থাকলে অনেকেরই যেন খাওয়াই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভাতে রয়েছে শক্তির যোগানদাতা কার্বোহাইড্রেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে ভাত খাওয়ার সঠিক সময় ও চালের ধরন সম্পর্কে জানা থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে আরও উপকারী।

সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ দেবজানি ব্যানার্জি জানিয়েছেন, দিনভর কাজের জন্য শক্তি প্রয়োজন হয়, আর সেই প্রয়োজন মেটাতেই সঠিক সময়ে ভাত খাওয়া জরুরি। তার মতে, দুপুর হলো ভাত খাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময়।

কেন দুপুরে ভাত খাওয়াই ভালো?

দেবজানির মতে, দুপুরবেলা মানুষের বিপাকক্রিয়া সবচেয়ে সক্রিয় থাকে, ফলে সে সময় খাওয়া ভাত সহজে হজম হয়। বিশেষ করে ধূসর, বাদামি বা লাল চালের ভাতে থাকা ভিটামিন বি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া এই চালগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

আরও পড়ুন : বর্ষায় দই খাওয়া কেন ক্ষতিকর?

কোন চাল বেশি উপকারী?

সাদা চালের তুলনায় বাদামি বা লাল চালে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ বেশি থাকে। সাদা চাল বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, বাদামি চাল ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহ করে।

ক্যালোরির পার্থক্য:

  • সাদা চাল (রান্না করা) প্রতি ১০০ গ্রামে: প্রায় ১৩০ ক্যালোরি
  • বাদামি চাল (রান্না করা) প্রতি ১০০ গ্রামে: প্রায় ১১০ ক্যালোরি

যদিও সাদা চালের ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি, তবে বাদামি চালে থাকা অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাতে ভাত খাওয়া কি ঠিক?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাতে ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়, বিশেষত যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। কারণ, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত শক্তি দেয় বটে, তবে রাতের খাবার হিসেবে তা অতিরিক্ত ক্যালোরি সরবরাহ করে এবং হজম হতে সময় নেয়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।