০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঋণের চাপে বিপর্যস্ত গৃহবধূর আত্মহত্যা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • 106

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন নাজমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ। রোববার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বদরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নাজমা বেগম পেশায় অটোরিকশাচালক জাকির হোসেনের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসারের খরচ মেটাতে নাজমা ও তার স্বামী একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। একসময় জাকির হোসেন রিকশা চালিয়ে সংসার সামাল দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার আয় কমে যায়। এ অবস্থায় প্রতিদিনই কিস্তির তাগাদা বাড়তে থাকে, এনজিও কর্মীরা নিয়মিত এসে বাড়িতে চাপ সৃষ্টি করতেন।

আরও পড়ুন : মেয়ের ভালো রেজাল্টেও মুখে হাসি নেই রিকশাচালক বাবার

এ নিয়ে পরিবারে শুরু হয় অশান্তি ও মানসিক চাপ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুছ পাটওয়ারী জানান, পরিবারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও এনজিওগুলোর চাপই নাজমার আত্মহত্যার পেছনে বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার দিন সকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন নাজমা। কিছুক্ষণ পর স্বামী বাড়ি ফিরে এসে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই ধারণা করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ঋণের চাপে বিপর্যস্ত গৃহবধূর আত্মহত্যা

সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন নাজমা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ। রোববার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বদরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নাজমা বেগম পেশায় অটোরিকশাচালক জাকির হোসেনের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসারের খরচ মেটাতে নাজমা ও তার স্বামী একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। একসময় জাকির হোসেন রিকশা চালিয়ে সংসার সামাল দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার আয় কমে যায়। এ অবস্থায় প্রতিদিনই কিস্তির তাগাদা বাড়তে থাকে, এনজিও কর্মীরা নিয়মিত এসে বাড়িতে চাপ সৃষ্টি করতেন।

আরও পড়ুন : মেয়ের ভালো রেজাল্টেও মুখে হাসি নেই রিকশাচালক বাবার

এ নিয়ে পরিবারে শুরু হয় অশান্তি ও মানসিক চাপ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুছ পাটওয়ারী জানান, পরিবারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও এনজিওগুলোর চাপই নাজমার আত্মহত্যার পেছনে বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার দিন সকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন নাজমা। কিছুক্ষণ পর স্বামী বাড়ি ফিরে এসে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই ধারণা করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’