মদ ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কোরআন ও হাদিসে মদের ভয়াবহতা ও তার কুফল সম্পর্কে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবহৃত মদের বোতল ফেলে না দিয়ে কেউ কেউ তা পরিষ্কার করে পানির বোতল হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রশ্ন উঠতে পারে—এটি কি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ?
আলোচনার আগে ইসলামে মদের অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা ও ভাগ্য নির্ধারণের তীর হলো শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এসব থেকে দূরে থাকো যাতে তোমরা সফল হও।‘ (সূরা মায়েদা, আয়াত ৯০)
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নেশাদ্রব্যই মদ, আর সব মদই হারাম।’ (সহিহ মুসলিম)
তবে শুধু মদ নয়, মদের ব্যবহৃত পাত্র বা বোতল নিয়েও ইসলামী শরিয়তে রয়েছে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি।
আরও পড়ুন : পরীক্ষায় পাস করার দোয়া
ইসলামী বিশেষজ্ঞ ও ফিকাহবিদদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, মদের বোতল যদি ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় এবং তাতে কোনো মদের চিহ্ন বা গন্ধ না থাকে, তবে সেখানে পানি রাখা এবং তা পান করা বৈধ।
তবে আদর্শ হচ্ছে—এমন বোতল ব্যবহার না করা। কারণ, এই ধরনের পাত্র ব্যবহার মানুষের মনে কুমন্ত্রণা, মদের প্রতি আগ্রহ কিংবা সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইসলামী দৃষ্টিতে এটি বর্জন করাই উত্তম ও সতর্কতামূলক।
এক সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবি আবু সালাবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা যেহেতু আহলে কিতাবদের প্রতিবেশী, যাঁরা শূকরের গোশত রান্না করেন ও মদ পান করেন—তাদের পাত্র ব্যবহারের বিষয়ে কী করা উচিত?
রাসুল (সা.) বলেন, “তোমরা যদি অন্য পাত্র পাও, তবে তা ব্যবহার করো। আর না পেলে, তাদের পাত্র ভালোভাবে ধুয়ে নাও, তারপর তাতে খাও বা পান কর।” (আবু দাউদ: ৩৮৩৯)
অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘আমি তোমাদের কিছু পাত্র (মদের পাত্র) ব্যবহার না করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু মনে রেখো—কোনো পাত্র কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম করতে পারে না। প্রতিটি নেশাদ্রব্যই হারাম।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৩২৬)
ইসলামের প্রথম যুগে মদের পাত্রে পানি পান নিষিদ্ধ ছিল তিনটি কারণে—
- ১. পাত্রে মদের চিহ্ন বা অবশিষ্টাংশ থেকে যেত।
- ২. নতুন মুসলিমদের মনে পুরোনো অভ্যাস স্মরণ হয়ে যেতে পারত।
- ৩. মদের প্রতি ঘৃণা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।
পরবর্তীতে সাহাবিরা যখন মদের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে সচেতন হলেন, তখন সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।
যদি মদের বোতল ভালোভাবে পরিস্কার করা হয় এবং তাতে মদের কোনো গন্ধ বা অবশিষ্টাংশ না থাকে, তাহলে পানি রাখা জায়েজ (বৈধ)।
ঢাকা ডেস্ক 









