২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত আলোচিত দুটি মামলার আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (১৩ জুলাই) সকালে পৃথক প্রিজনভ্যানে করে রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা ও ঢাকার আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে আনা হয়।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মোট ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ জন এখনও পলাতক। গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল তাদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ গ্রেপ্তার চারজন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন : রাজসাক্ষী হওয়ায় শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা পেলেন সাবেক আইজিপি মামুন
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদ। আন্দোলনের মুখ্য দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা। আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর সারাদেশে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ নামে গণআন্দোলন শুরু হয়, যা দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ জুলাই কারফিউ জারির পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় তৎকালীন আওয়ামী সরকার।
অন্যদিকে, আশুলিয়ায় সংঘটিত গণহত্যা ও ছয় মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। মামলায় পলাতক রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৮ জন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আবু সাঈদ হত্যাকে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের ‘প্রথম শহীদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল কোটা সংস্কার ঘিরে, তবে এটি পরিণত হয় সরকারবিরোধী গণজাগরণে।
ঢাকা ডেস্ক 









