১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের ৩০ বছর পর একসঙ্গে দাখিল পাস করলেন সাংবাদিক দম্পত্তি

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • 101

ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় পরিচিত মুখ কাইসার হামিদ (৫১) ও রোকেয়া আক্তার (৪৪) সাংবাদিক দম্পতি। এসএসসি পাস না করায় তাদের মনে দুঃখ ছিল।

অদম্য ইচ্ছা আর মানসিক শক্তির জোরে এবার সেই দুঃখ ঘুচিয়েছেন তারা।

কাইসার হামিদ ও রোকেয়া আক্তার এবার নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দেন চলতি বছর।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে উত্তীর্ণ হয়েছেন দুজনই। পাশ করার খবর পেয়ে তাদের মাঝে যেন আনন্দের বন্যা বইছে। নিজেরাও যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনি তাদের ছেলে-মেয়েরাও খুশি হয়েছে।

দুজনই জিপিএ- ৪.১১ পেয়ে পাস করেছেন। বিয়ের ৩০ বছর পর একসঙ্গে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করায় এ দম্পতিকে অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

পড়াশোনা না থাকাই ছিল কষ্টের কারণ

কাইসার হামিদ দৈনিক নয়াদিগন্ত এবং রোকেয়া আক্তার দৈনিক বুলেটিন পত্রিকার কুলিয়ারচর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। সাংবাদিক কাইসার হামিদ বলেন, আমার সাংবাদিকতার বয়স ৩০ পেরিয়েছে।

আমি সক্রিয় ভাবেই এই পেশায় কাজ করেছি সমাজ থেকে অনেক ভালো কিছু পেয়েছি। কেবল কষ্ট ছিল পড়াশোনা নিয়ে।

আরও পড়ুন  : ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সেই ইউপি সদস্য ইংরেজিতে ফেল

তিনি বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই একই কষ্ট। বাইরে গেলে পড়াশোনার প্রসঙ্গ এলে চুপ থাকতাম। অনেকে ইচ্ছা করে খোঁচা দিতেন। এসএসসি পাস না করে সাংবাদিকতা করছেন কীভাবে, অনেকে প্রশ্ন তুলতেন।

পরে যেভাবে হোক এসএসসি পাসের পরিকল্পনা করলাম। সেই অনুযায়ী ভর্তি হয়ে দুজনে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেই।

ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর পরীক্ষায় পাস করতে পেরে আনন্দিত রোকেয়া আক্তার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে হয় পরে সন্তান জন্ম হয়। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

এই কষ্ট দুই যুগের অধিক সময় ধরে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই কষ্ট দূর করার উপায় খুঁজতাম।

এটা বুঝতে পারি কষ্ট দূর করতে হলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করার বিকল্প নেই। সে কারণেই সাহস করে পরীক্ষা দিলাম এবং পরীক্ষার ফল পেলাম এখন আমরা খুব খুশি।

 

ব্যক্তি জীবনে সাংবাদিক দম্পতি

কাইসার হামিদের বাড়ি কুলিয়ারচরের গোবরিয়া গ্রামে। রোকেয়া আক্তারের বাড়ি জেলার কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের মেয়ে।

দু-জনের বাবা পেশায় ছিলেন শিক্ষক। তারা বিয়ে করেন ১৯৯৪ সালের ১৬ মার্চ। এ দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান নাসরিন সুলতানা ইতিমধ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

আরও পড়ুন : গোল্ডেন এ প্লাস না পেয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

দ্বিতীয় সন্তান জেসমিন সুলতানা স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং তৃতীয় সন্তান মাইমুনা পড়ছেন নার্সিং বিষয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন নবম এবং আবদুল্লাহ ফাহিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এই সাংবাদিক দম্পতি বিয়ের আগে এসএসসি দিতে না পারলেও কয়েকবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাংসারিক চাপে শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। তবে মনের জোর এবং স্বজনদের উৎসাহে পড়াশোনা করে এবার এসএসসি পাস করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বিয়ের ৩০ বছর পর একসঙ্গে দাখিল পাস করলেন সাংবাদিক দম্পত্তি

সর্বশেষ আপডেট : ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় পরিচিত মুখ কাইসার হামিদ (৫১) ও রোকেয়া আক্তার (৪৪) সাংবাদিক দম্পতি। এসএসসি পাস না করায় তাদের মনে দুঃখ ছিল।

অদম্য ইচ্ছা আর মানসিক শক্তির জোরে এবার সেই দুঃখ ঘুচিয়েছেন তারা।

কাইসার হামিদ ও রোকেয়া আক্তার এবার নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দেন চলতি বছর।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে উত্তীর্ণ হয়েছেন দুজনই। পাশ করার খবর পেয়ে তাদের মাঝে যেন আনন্দের বন্যা বইছে। নিজেরাও যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনি তাদের ছেলে-মেয়েরাও খুশি হয়েছে।

দুজনই জিপিএ- ৪.১১ পেয়ে পাস করেছেন। বিয়ের ৩০ বছর পর একসঙ্গে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করায় এ দম্পতিকে অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

পড়াশোনা না থাকাই ছিল কষ্টের কারণ

কাইসার হামিদ দৈনিক নয়াদিগন্ত এবং রোকেয়া আক্তার দৈনিক বুলেটিন পত্রিকার কুলিয়ারচর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। সাংবাদিক কাইসার হামিদ বলেন, আমার সাংবাদিকতার বয়স ৩০ পেরিয়েছে।

আমি সক্রিয় ভাবেই এই পেশায় কাজ করেছি সমাজ থেকে অনেক ভালো কিছু পেয়েছি। কেবল কষ্ট ছিল পড়াশোনা নিয়ে।

আরও পড়ুন  : ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সেই ইউপি সদস্য ইংরেজিতে ফেল

তিনি বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই একই কষ্ট। বাইরে গেলে পড়াশোনার প্রসঙ্গ এলে চুপ থাকতাম। অনেকে ইচ্ছা করে খোঁচা দিতেন। এসএসসি পাস না করে সাংবাদিকতা করছেন কীভাবে, অনেকে প্রশ্ন তুলতেন।

পরে যেভাবে হোক এসএসসি পাসের পরিকল্পনা করলাম। সেই অনুযায়ী ভর্তি হয়ে দুজনে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেই।

ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর পরীক্ষায় পাস করতে পেরে আনন্দিত রোকেয়া আক্তার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে হয় পরে সন্তান জন্ম হয়। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

এই কষ্ট দুই যুগের অধিক সময় ধরে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই কষ্ট দূর করার উপায় খুঁজতাম।

এটা বুঝতে পারি কষ্ট দূর করতে হলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করার বিকল্প নেই। সে কারণেই সাহস করে পরীক্ষা দিলাম এবং পরীক্ষার ফল পেলাম এখন আমরা খুব খুশি।

 

ব্যক্তি জীবনে সাংবাদিক দম্পতি

কাইসার হামিদের বাড়ি কুলিয়ারচরের গোবরিয়া গ্রামে। রোকেয়া আক্তারের বাড়ি জেলার কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের মেয়ে।

দু-জনের বাবা পেশায় ছিলেন শিক্ষক। তারা বিয়ে করেন ১৯৯৪ সালের ১৬ মার্চ। এ দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান নাসরিন সুলতানা ইতিমধ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

আরও পড়ুন : গোল্ডেন এ প্লাস না পেয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

দ্বিতীয় সন্তান জেসমিন সুলতানা স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং তৃতীয় সন্তান মাইমুনা পড়ছেন নার্সিং বিষয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন নবম এবং আবদুল্লাহ ফাহিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এই সাংবাদিক দম্পতি বিয়ের আগে এসএসসি দিতে না পারলেও কয়েকবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাংসারিক চাপে শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। তবে মনের জোর এবং স্বজনদের উৎসাহে পড়াশোনা করে এবার এসএসসি পাস করেছেন।