বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও আমরা মনে করি জনসমর্থিত। কারণ সমস্ত রাজনৈতিক দল শুধু আওয়ামী লীগ আর তাদের কয়েকটি দোসর ছাড়া সবাই এই সরকারকে সমর্থন করেছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে নাপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুসের রোগ মুক্তি কামনায় দুঃস্থদের মাঝে জায়নামাজ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম, মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেন প্রমুখ।
রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমরা সবাই সমর্থন করে যাচ্ছি। কিন্তু এটাও তো ঠিক দুর্ভিক্ষের আলামত যদি আমরা দেখতে পাই, শুনতে পাই তাহলে তো জনগণ আমাদের ছেড়ে দেবে না।
তিনি বলেন, জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে প্রতিটি পদে পদে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সেই জবাবদিহিতা এখন নেই।
আরও পড়ুন : ‘শাপলা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় : নাহিদ ইসলাম
রিজভী বলেন, আমরা বৃহত্তর আদর্শের জন্য লড়াই করছি। মানবিক, সাম্য, ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করছি। আইনের শাসনের জন্য লড়াই করছি যার জন্য দরকার চিরায়ত গণতন্ত্র, খাটি গণতন্ত্র। এটা বৃহত্তর আদর্শের লড়াই যেখানে জনগণের মালিকানা জনগণ ফিরে পাবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে তো সংস্কার বিরোধী কোনো কথা বলা হয়নি, সংস্কারের পক্ষেই বলা হয়েছে। আপনারা যে সংস্কারের কথা বলছেন, বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে প্রায় অনেক জিনিসই প্রতিফলিত হয়েছে।
জুলাই সনদের অনেক বিষয় বিএনপি গ্রহণ করেছে। কিন্তু এটি মূলনীতির মধ্যে নিতে হবে কেন? যুগে যুগে দেশে দেশে আরও সংস্কার হবে।
তিনি বলেন, এটা শুধু মুখের কথা নয় সামনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় কি না এটা এখন মানুষের মনে মনে। যদি আমরা দুর্ভিক্ষের আলামত দেখতে পাই শুনতে পাই তাহলে তো জনগণ আমাদের ছেড়ে দেবে না।
আজ প্রায় অসংখ্য গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মানুষ কর্মহীন হচ্ছে। মানুষ যদি খাবার কিনতে না পারে তাহলে কিন্তু দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হবে এবং কেউ-ই কিন্তু রেহাই পাবে না আর হাততালি দিবে ওই পতিত ফ্যাসিস্টরা।
রিজভী বলেন, যে দোসরা ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে তাদের সঙ্গে নামে মাত্র কিছু প্রতিষ্ঠান একই কাজ করেছে। সরকার ইচ্ছা করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে পারে।
আরও পড়ুন : গণহত্যার দায়ে আ.লীগের বিচার হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
গার্মেন্টস গুলো যাতে বন্ধ না হয় সরকার এটাকে নানাভাবে টেকওভার করতে পারে। দোসররা থেকে থাকলে তাদের বিচার করুন। শ্রমিকদের কলকারখানা যেন বন্ধ না হয়। কারণ অর্থনীতির কঠিন করুন অবস্থা।
আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে এটা ঠিক কিন্তু পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না করলে জনগণের কাছে কেউ-ই রেহাই পাবেন না।
রিপোর্টার 









