১২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকায় কেন বীভৎস এই নৃশংসতা?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • 71

হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতার ভিড়। ছবি : সংগৃহীত

চাঁদা না পেয়ে রাজধানী ঢাকায় নামে চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন হত্যাকারীরা।

বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কম্পাউন্ডে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় আশেপাশে শত শত মানুষ ছিলেন। অদূরে ছিলেন হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসাররা। কিন্তু ওই ঘটনার সময় এগিয়ে যাননি কেউ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসার সঙ্গে পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তার দোকানের নাম সোহানা মেটাল। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের কাছে।

আরও পড়ুন : খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি ও রগ কেটে হত্যা

তবে, এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু নামে আরও দুজন। তারা ওই অবৈধ বাণিজ্যের ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল। তা না হলে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা।

এর জেরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন সোহাগকে তার দোকান থেকে ডেকে আনা হয়েছিল।

যা জানা যাচ্ছে

স্থানীয়রা জানান, নিহত সোহাগ ও হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মহিন, টিটুসহ জড়িত অন্যরাও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিত এবং স্থানীয়ভাবেও তাদের সবাই যুবদলের নেতা বলে জানে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী, আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ঢাকায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে-কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা, লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস

তিনি জানান, খুনিরা সোহাগের কাছে ব্যবসার ৫০ শতাংশ অংশীদার দাবি করেছিল। নইলে লাভের ৫০ শতাংশ চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের এক স্বজন জানান, টিটু নামে এক যুবক সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করা ৪০ থেকে ৫০ জন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের এডিসি আমিনুল কবির তরফদার বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সব আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে,’ বলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ঢাকায় কেন বীভৎস এই নৃশংসতা?

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

চাঁদা না পেয়ে রাজধানী ঢাকায় নামে চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন হত্যাকারীরা।

বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কম্পাউন্ডে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় আশেপাশে শত শত মানুষ ছিলেন। অদূরে ছিলেন হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসাররা। কিন্তু ওই ঘটনার সময় এগিয়ে যাননি কেউ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসার সঙ্গে পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। তার দোকানের নাম সোহানা মেটাল। ওই এলাকায় বিদ্যুতের তামার তার ও সাদা তারের ব্যবসার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ ছিল সোহাগের কাছে।

আরও পড়ুন : খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি ও রগ কেটে হত্যা

তবে, এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু নামে আরও দুজন। তারা ওই অবৈধ বাণিজ্যের ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল। তা না হলে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল তারা।

এর জেরেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন সোহাগকে তার দোকান থেকে ডেকে আনা হয়েছিল।

যা জানা যাচ্ছে

স্থানীয়রা জানান, নিহত সোহাগ ও হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মহিন, টিটুসহ জড়িত অন্যরাও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিত এবং স্থানীয়ভাবেও তাদের সবাই যুবদলের নেতা বলে জানে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী, আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ঢাকায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে-কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা, লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস

তিনি জানান, খুনিরা সোহাগের কাছে ব্যবসার ৫০ শতাংশ অংশীদার দাবি করেছিল। নইলে লাভের ৫০ শতাংশ চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের এক স্বজন জানান, টিটু নামে এক যুবক সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করা ৪০ থেকে ৫০ জন সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের এডিসি আমিনুল কবির তরফদার বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সব আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে,’ বলেন তিনি।