১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীর ১,৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • 77

টানা বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় নোয়াখালী জেলায় ১,৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব জানান, জেলার ১,২৫৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস আগামী শনিবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে জরুরি মালামাল রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। পরিস্থিতি অবনতি হলে বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, জেলার ৫০০-রও বেশি মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় চলমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন : রাত ১ টার মধ্যে যেসব এলাকায় ৬০ কি.মি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর, সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এবং বাড়িঘরে পানি উঠে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, বিশুদ্ধ পানির মোবাইল প্ল্যান্ট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।’

এদিকে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও তানভীর ফরহাদ শামিম জানান, স্থানীয় একটি বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত সে বাঁধ অপসারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যাও দেখা দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীর ১,৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

টানা বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় নোয়াখালী জেলায় ১,৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব জানান, জেলার ১,২৫৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস আগামী শনিবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে জরুরি মালামাল রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। পরিস্থিতি অবনতি হলে বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, জেলার ৫০০-রও বেশি মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় চলমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন : রাত ১ টার মধ্যে যেসব এলাকায় ৬০ কি.মি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর, সেনবাগ, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক এবং বাড়িঘরে পানি উঠে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, বিশুদ্ধ পানির মোবাইল প্ল্যান্ট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।’

এদিকে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও তানভীর ফরহাদ শামিম জানান, স্থানীয় একটি বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত সে বাঁধ অপসারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যাও দেখা দিয়েছে।