০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করায় বাধা দেওয়াই কাল হয় দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • 76

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করায় বাধা হয়ে দাঁড়ানোই কাল হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শরীফ উদ্দিনের।

২০২১ সালের জুনে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন।

এ মামলায় এলোমেলো করে দেয় তার জীবন। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে চাকরি খেয়ে বসেন শরীফের।

তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে চাকরি ফিরে পেতে যাচ্ছেন দুদক’র এই কর্মকর্তা।

বুধবার (৯ জুলাই) শরীফ উদ্দিনকে চাকরি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার পাওনা সব বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও দিতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) শরীফ উদ্দিন প্রায় সাড়ে ৩ বছর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

সে সময় এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে ২০২১ সালের জুনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ৬ কর্মীসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। এ মামলার পরপর ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়।

শরীফ তার মেয়াদকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়মের খবর প্রকাশের জন্য আলোচিত হন। সে সময় তিনি ইসি কর্মকর্তা, কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইয়াবা চোরাকারবারি, রোহিঙ্গা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১ ডজনেরও বেশি মামলা করেন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট দেওয়ার ঘটনায় এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী তিনি।

কর্ণফুলীর দুর্নীতির মামলায় তিনি কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) সারোয়ার হোসেন এবং অন্যান্যদের সঙ্গে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করেন।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক শরীফ কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত ইয়াবা চোরাকারবারি হাজী সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। সাইফুল ২০১৯ সালের ৩১ মে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিএমসিএইচ) অনিয়মেরও তদন্ত করেছেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য দুদকের সদর দপ্তরে রয়েছে।

২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর শরীফ উদ্দিন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।

জিডিতে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী ও অপর এক ব্যক্তি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার বাড়িতে এসে তাকে হুমকি দেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা দুদকের সরকারি বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখানে দেখা গেছে শরীফ ও অভিযুক্ত আইয়ুব দুজনেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন।’

‘শরীফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে জব্দ করা ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আছে। এ নিয়ে হাইকোর্টও তাকে তিরস্কার করেছেন,’ বলেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে শরীফ উদ্দীন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অন্যায় করা হয়েছে। আমি কীভাবে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করলাম?’

‘আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর তদন্ত চলছে। আমি জবাবও দিয়েছি। আশা করি তদন্ত প্রতিবেদন আমার পক্ষেই থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জব্দ করা ৯৪ লাখ টাকা আমার কাছে রাখার বিষয়টি আমার পরিচালক জানতেন। চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার সময় আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেটি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করায় বাধা দেওয়াই কাল হয় দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করায় বাধা হয়ে দাঁড়ানোই কাল হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শরীফ উদ্দিনের।

২০২১ সালের জুনে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন।

এ মামলায় এলোমেলো করে দেয় তার জীবন। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে চাকরি খেয়ে বসেন শরীফের।

তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে চাকরি ফিরে পেতে যাচ্ছেন দুদক’র এই কর্মকর্তা।

বুধবার (৯ জুলাই) শরীফ উদ্দিনকে চাকরি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার পাওনা সব বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও দিতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) শরীফ উদ্দিন প্রায় সাড়ে ৩ বছর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

সে সময় এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে ২০২১ সালের জুনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ৬ কর্মীসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। এ মামলার পরপর ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়।

শরীফ তার মেয়াদকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়মের খবর প্রকাশের জন্য আলোচিত হন। সে সময় তিনি ইসি কর্মকর্তা, কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইয়াবা চোরাকারবারি, রোহিঙ্গা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১ ডজনেরও বেশি মামলা করেন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট দেওয়ার ঘটনায় এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী তিনি।

কর্ণফুলীর দুর্নীতির মামলায় তিনি কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) সারোয়ার হোসেন এবং অন্যান্যদের সঙ্গে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করেন।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক শরীফ কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত ইয়াবা চোরাকারবারি হাজী সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। সাইফুল ২০১৯ সালের ৩১ মে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিএমসিএইচ) অনিয়মেরও তদন্ত করেছেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য দুদকের সদর দপ্তরে রয়েছে।

২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর শরীফ উদ্দিন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।

জিডিতে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী ও অপর এক ব্যক্তি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার বাড়িতে এসে তাকে হুমকি দেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা দুদকের সরকারি বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখানে দেখা গেছে শরীফ ও অভিযুক্ত আইয়ুব দুজনেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন।’

‘শরীফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে জব্দ করা ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আছে। এ নিয়ে হাইকোর্টও তাকে তিরস্কার করেছেন,’ বলেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে শরীফ উদ্দীন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অন্যায় করা হয়েছে। আমি কীভাবে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করলাম?’

‘আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর তদন্ত চলছে। আমি জবাবও দিয়েছি। আশা করি তদন্ত প্রতিবেদন আমার পক্ষেই থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জব্দ করা ৯৪ লাখ টাকা আমার কাছে রাখার বিষয়টি আমার পরিচালক জানতেন। চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার সময় আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেটি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।’