০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা: প্রস্তুত ১৫৩ আশ্রয়কেন্দ্র

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • 64

ছবি : সংগৃহীত

ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও সদর উপজেলায় ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্গতদের জন্য ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফুলগাজীতে ৯৯টি পরশুরামে ৩২টি, সদরে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেনকে প্রধান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং টিম ও একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

অন্যদিকে ২ হাজার ৫৪৭ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৮টি পরিবারের ১৩৩ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

তাদের মধ্যে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার রাতেই ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম (মোবাইল নম্বর ০১৮৯৮৪৪৪৫০০, ০১৩৩৬৫৮৬৬৯৩) খোলা হয়েছে।

যে কোনো প্রয়োজনে ওই নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সবাই অনুরোধ করছি।

আরও পড়ুন :  ফেনীতে পানির নিচে ৩০ গ্রাম

এদিকে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১৪টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়।

এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টা পর্যন্ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে থাকে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মুহূর্তেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টায়) ফেনীতে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৩০৬ মিলিমিটার।

তিনি জানান, অতি বৃষ্টিপাত ১২০ ঘণ্টা স্থায়ী থাকবে। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নাগাদ অতিভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ১২ জুলাই নাগাদ অতিবৃষ্টি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা: প্রস্তুত ১৫৩ আশ্রয়কেন্দ্র

সর্বশেষ আপডেট : ০১:০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও সদর উপজেলায় ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্গতদের জন্য ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফুলগাজীতে ৯৯টি পরশুরামে ৩২টি, সদরে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেনকে প্রধান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং টিম ও একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

অন্যদিকে ২ হাজার ৫৪৭ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৮টি পরিবারের ১৩৩ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

তাদের মধ্যে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার রাতেই ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম (মোবাইল নম্বর ০১৮৯৮৪৪৪৫০০, ০১৩৩৬৫৮৬৬৯৩) খোলা হয়েছে।

যে কোনো প্রয়োজনে ওই নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সবাই অনুরোধ করছি।

আরও পড়ুন :  ফেনীতে পানির নিচে ৩০ গ্রাম

এদিকে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১৪টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়।

এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টা পর্যন্ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে থাকে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মুহূর্তেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টায়) ফেনীতে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৩০৬ মিলিমিটার।

তিনি জানান, অতি বৃষ্টিপাত ১২০ ঘণ্টা স্থায়ী থাকবে। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নাগাদ অতিভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ১২ জুলাই নাগাদ অতিবৃষ্টি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।