০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফেনীতে বন্যায় সংকটে হাজারো মানুষ, শুকনো খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র ঘাটতি

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • 54

ফেনীতে ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় অন্তত ২০টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে শুরু হওয়া বাঁধ ভাঙনের ফলে দুর্গম এলাকায় তীব্র স্রোতের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। এখনও থেমে নেই প্লাবন।

গাইনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আছমা আক্তার বলেন, ‘রাত থেকেই পানি বাড়তে থাকে। কিছু জিনিস ওপরে তুলেছি, তবে খাবার ও পানির চরম সংকটে ভুগছি। প্রশাসনের কাউকে এখনো এলাকায় দেখিনি।’

নাপিতকোনা গ্রামের জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেও বাঁধ ঠেকাতে পারিনি। পানি ঢুকে ঘর প্লাবিত হয়েছে। পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই, মোবাইলের নেটওয়ার্কও বন্ধ। আমরা আর পানিতে ভাসতে চাই না, টেকসই বাঁধ চাই।’

আরও পড়ুন : পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার জানান, ‘নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি বন্ধ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আপাতত ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি ঢুকছে, প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন অঞ্চল।’

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন,গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকালও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।’

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই উপজেলায় ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রান্না করা খাবার সরবরাহের প্রস্তুতিও রয়েছে।’

তবে দুর্গতরা অভিযোগ করছেন, অনেক এলাকায় সহায়তা পৌঁছেনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ফেনীতে বন্যায় সংকটে হাজারো মানুষ, শুকনো খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র ঘাটতি

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

ফেনীতে ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ফলে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় অন্তত ২০টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে শুরু হওয়া বাঁধ ভাঙনের ফলে দুর্গম এলাকায় তীব্র স্রোতের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। এখনও থেমে নেই প্লাবন।

গাইনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আছমা আক্তার বলেন, ‘রাত থেকেই পানি বাড়তে থাকে। কিছু জিনিস ওপরে তুলেছি, তবে খাবার ও পানির চরম সংকটে ভুগছি। প্রশাসনের কাউকে এখনো এলাকায় দেখিনি।’

নাপিতকোনা গ্রামের জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেও বাঁধ ঠেকাতে পারিনি। পানি ঢুকে ঘর প্লাবিত হয়েছে। পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই, মোবাইলের নেটওয়ার্কও বন্ধ। আমরা আর পানিতে ভাসতে চাই না, টেকসই বাঁধ চাই।’

আরও পড়ুন : পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার জানান, ‘নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি বন্ধ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আপাতত ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি ঢুকছে, প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন অঞ্চল।’

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন,গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকালও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।’

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই উপজেলায় ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রান্না করা খাবার সরবরাহের প্রস্তুতিও রয়েছে।’

তবে দুর্গতরা অভিযোগ করছেন, অনেক এলাকায় সহায়তা পৌঁছেনি।