১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মুরাদনগরের সেই নারীর ভিডিও ছড়ানো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল র‌্যাব

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • 98

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। শুক্রবার (০৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

মুরাদনগরের সেই নারীর ভিডিও ছড়ানো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়। শাহ পরান ধর্ষণ মামলার মূল আসামি ফজর আলীর ছোট ভাই। তিনিই নারীকে মারধর, বিবস্ত্র করা এবং ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার কাছ থেকে ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

শাহ পরান
কুমিল্লার মুরাদনগরে নারীকে ‘ধর্ষণ’ ও নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে ভিডিও ছড়ানোর নেপথ্যে মূল হোতা গ্রেপ্তার শাহ পরান। ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাব আরও জানায়, প্রায় দুই মাস আগে ফজর আলী ও তার ভাই শাহ পরানের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে গ্রাম্য সালিশে বড় ভাই ফজর আলী জনসম্মুখে ছোট ভাই শাহ পরানকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ অপমানের প্রতিশোধ নিতেই শাহ পরান এ ধরনের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন।

আরও পড়ুন : ‘মাসুদ আমার মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী’

সালিশের কিছুদিন পর, ভুক্তভোগী নারীর মা ফজর আলীর কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর নারীর বাবা-মা মেলায় গেলে, সেই সুযোগে ফজর আলী টাকা আদায়ের অজুহাতে নারীর ঘরে ঢুকে পড়েন।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়ির আশপাশে অবস্থান করা শাহ পরান, আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজানসহ আরও ৮-১০ জন সহযোগী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। তারা এ সময় মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

ঘটনার পর থেকে শাহ পরানসহ অভিযুক্ত সবাই আত্মগোপনে চলে যান। র‌্যাব জানিয়েছে, বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ, গত ২৬ জুন রাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন বাহেরচর গ্রামে এক নারীকে নিগ্রহের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গত ২৯ জুন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধর্ষণে অভিযুক্তসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মুরাদনগরের সেই নারীর ভিডিও ছড়ানো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল র‌্যাব

সর্বশেষ আপডেট : ০২:২০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার মূল হোতা শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। শুক্রবার (০৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

মুরাদনগরের সেই নারীর ভিডিও ছড়ানো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়। শাহ পরান ধর্ষণ মামলার মূল আসামি ফজর আলীর ছোট ভাই। তিনিই নারীকে মারধর, বিবস্ত্র করা এবং ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার কাছ থেকে ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

শাহ পরান
কুমিল্লার মুরাদনগরে নারীকে ‘ধর্ষণ’ ও নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে ভিডিও ছড়ানোর নেপথ্যে মূল হোতা গ্রেপ্তার শাহ পরান। ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাব আরও জানায়, প্রায় দুই মাস আগে ফজর আলী ও তার ভাই শাহ পরানের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে গ্রাম্য সালিশে বড় ভাই ফজর আলী জনসম্মুখে ছোট ভাই শাহ পরানকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ অপমানের প্রতিশোধ নিতেই শাহ পরান এ ধরনের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন।

আরও পড়ুন : ‘মাসুদ আমার মৃত্যুর জন্য তুমি দায়ী’

সালিশের কিছুদিন পর, ভুক্তভোগী নারীর মা ফজর আলীর কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর নারীর বাবা-মা মেলায় গেলে, সেই সুযোগে ফজর আলী টাকা আদায়ের অজুহাতে নারীর ঘরে ঢুকে পড়েন।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়ির আশপাশে অবস্থান করা শাহ পরান, আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজানসহ আরও ৮-১০ জন সহযোগী দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। তারা এ সময় মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

ঘটনার পর থেকে শাহ পরানসহ অভিযুক্ত সবাই আত্মগোপনে চলে যান। র‌্যাব জানিয়েছে, বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ, গত ২৬ জুন রাতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন বাহেরচর গ্রামে এক নারীকে নিগ্রহের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গত ২৯ জুন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধর্ষণে অভিযুক্তসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।