ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু দু’পক্ষের কেউই এমন নিশ্চয়তা দেয়নি যে, তারা আবারও একে অপরের ওপর হামলা করবেন না।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। এরইমধ্যে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ’র সাথে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান। ঘোষণা দিয়েছে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার।
আর এটি নিয়েই এই অঞ্চলটিতে আবারও বড় আকারের সামরিক সংঘাতের শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে কৌশলী ইরান।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানছি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানকে জানিয়েছে, তারা আলোচনায় ফিরতে চায়। কিন্তু আলোচনা চলার মধ্যেই আর হামলা হবে কি না, সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ওয়াশিংটন এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দেয়নি।’
এদিকে সম্প্রতি ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি মেহের নিউজকে, জায়োনিস্ট ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা চলে না। জায়োনিস্টরা যদি আগ্রাসন চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে পালটা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না ইরান।
আরও পড়ুন : পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও কাজ শুরু করেছে ইরান
অন্যদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা ভাবেনি আমরা এমন হামলা করতে পারি। ইসরায়েল তাদের পরমাণু অবকাঠামোর কিছুটা ক্ষতি করতে পেরেছে। তবে আমরাই গোটা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিয়েছি।’
যদিও আইএইএ’র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুতর ক্ষতি হলেও সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
এদিকে ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আলি শামখানি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও সব আশা শেষ, এমন ভাবার কারণ নেই। কারণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার উপায় জানা আছে। এই মুহূর্তে ইরানকে তাদের প্রতিরক্ষা জোরদার করার বিষয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে।’
শামখানির এই মনোভাব পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তার পাশাপাশি সামরিক প্রতিরোধ বা নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি বলেই ধরে নেওয়া যায়।
ঢাকা ডেস্ক 









