০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের উপর চটেছেন ইলন মাস্ক, সরাসরি হুমকি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • 113

মার্কিন ধনকুবের ও সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা ইলন মাস্ক আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট ও কর বিল কংগ্রেসে পাস হলে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল—‘আমেরিকা পার্টি’ গঠন করবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাইমারি চ্যালেঞ্জে অর্থসহ সমর্থন দেবেন।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হুমকি মাস্কের

মাস্ক সোমবার (৩০ জুন) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “যদি এই পাগলাটে ব্যয় বিল পাস হয়, তাহলে পরদিনই ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হবে। আমাদের দেশ এখন ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান ইউনিপার্টি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর নেই।”

তিনি বলেন, ‘হাউস ও সিনেটের প্রায় সব রিপাবলিকানই আগামী বছর প্রাইমারিতে হারবে, এটাই যদি হয় আমার জীবনের শেষ কাজ!’ তিনি সরাসরি সমালোচনা করেন দুই হাউস রিপাবলিকান—অ্যান্ডি হ্যারিস (মেরিল্যান্ড) ও চিপ রয় (টেক্সাস)-কে, যাঁরা নিজেদের বাজেট রক্ষাকর্তা বলে দাবি করেন। সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন (ওকলাহোমা)-র সঙ্গেও মাস্ক বিতর্কে জড়ান।

যে কারণে ক্ষুব্ধ মাস্ক: রিপাবলিকানদের ঘনিষ্ঠ দাতাদের একজন মাস্ক। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক জুন মাসে বড় ধরনের বিরোধে রূপ নেয়। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট ও কর বিল বিষয়টি সামনে আসতেই চটে যান মাস্ক। তার মতে, এই নতুন বিল শুধুই অযৌক্তিক ব্যয় বাড়াবে, যার ফলে দেশের অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে এবং জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ধ্বংস হবে।

আরও পড়ুন : এবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইরানের শীর্ষ আলেমের ‘ফতোয়া’

অবশ্য এর আগেও এই বিল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন মাস্ক। যদিও পরে তার ভাষা কিছুটা নমনীয় হয়, কিন্তু এ বিতর্ক স্পষ্ট করে দেয়— দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

এদিকে মাস্কের মন্তব্যের পরে টেসলার শেয়ারমূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। কার্যত মুহূর্তেই কোম্পানির বাজারমূল্য থেকে হারিয়ে যায় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার। যদিও পরে শেয়ার দর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, এই ঘটনা বাজারে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের প্রভাব কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছে।

ইলন মাস্ক ইতিমধ্যেই এক্সে একটি জরিপ চালিয়েছিলেন যেখানে প্রশ্ন ছিল, “যুক্তরাষ্ট্রে কি এমন একটি নতুন রাজনৈতিক দল দরকার যা মধ্যমপন্থী ৮০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে?” যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি কার্যকর তৃতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে মাস্কের মতো আর্থিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির পক্ষে এ ধরনের প্রচেষ্টা একেবারে অসম্ভবও নয়।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ট্রাম্পের উপর চটেছেন ইলন মাস্ক, সরাসরি হুমকি

সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

মার্কিন ধনকুবের ও সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা ইলন মাস্ক আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট ও কর বিল কংগ্রেসে পাস হলে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল—‘আমেরিকা পার্টি’ গঠন করবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাইমারি চ্যালেঞ্জে অর্থসহ সমর্থন দেবেন।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হুমকি মাস্কের

মাস্ক সোমবার (৩০ জুন) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “যদি এই পাগলাটে ব্যয় বিল পাস হয়, তাহলে পরদিনই ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠিত হবে। আমাদের দেশ এখন ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান ইউনিপার্টি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর নেই।”

তিনি বলেন, ‘হাউস ও সিনেটের প্রায় সব রিপাবলিকানই আগামী বছর প্রাইমারিতে হারবে, এটাই যদি হয় আমার জীবনের শেষ কাজ!’ তিনি সরাসরি সমালোচনা করেন দুই হাউস রিপাবলিকান—অ্যান্ডি হ্যারিস (মেরিল্যান্ড) ও চিপ রয় (টেক্সাস)-কে, যাঁরা নিজেদের বাজেট রক্ষাকর্তা বলে দাবি করেন। সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিন (ওকলাহোমা)-র সঙ্গেও মাস্ক বিতর্কে জড়ান।

যে কারণে ক্ষুব্ধ মাস্ক: রিপাবলিকানদের ঘনিষ্ঠ দাতাদের একজন মাস্ক। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক জুন মাসে বড় ধরনের বিরোধে রূপ নেয়। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট ও কর বিল বিষয়টি সামনে আসতেই চটে যান মাস্ক। তার মতে, এই নতুন বিল শুধুই অযৌক্তিক ব্যয় বাড়াবে, যার ফলে দেশের অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে এবং জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ধ্বংস হবে।

আরও পড়ুন : এবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইরানের শীর্ষ আলেমের ‘ফতোয়া’

অবশ্য এর আগেও এই বিল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন মাস্ক। যদিও পরে তার ভাষা কিছুটা নমনীয় হয়, কিন্তু এ বিতর্ক স্পষ্ট করে দেয়— দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

এদিকে মাস্কের মন্তব্যের পরে টেসলার শেয়ারমূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। কার্যত মুহূর্তেই কোম্পানির বাজারমূল্য থেকে হারিয়ে যায় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার। যদিও পরে শেয়ার দর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, এই ঘটনা বাজারে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের প্রভাব কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছে।

ইলন মাস্ক ইতিমধ্যেই এক্সে একটি জরিপ চালিয়েছিলেন যেখানে প্রশ্ন ছিল, “যুক্তরাষ্ট্রে কি এমন একটি নতুন রাজনৈতিক দল দরকার যা মধ্যমপন্থী ৮০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে?” যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি কার্যকর তৃতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে মাস্কের মতো আর্থিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির পক্ষে এ ধরনের প্রচেষ্টা একেবারে অসম্ভবও নয়।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস