এবার ইসলামাবাদের ‘সাহসী অবস্থানের’ (ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে) প্রশংসা করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক ফোনালাপে এমন প্রশংসা করেন ইরানের সেনাপ্রধান।
প্রেস টিভির বরাত দিয়ে রোববারের (২৯ জুন) এই ফোনালাপের খবর দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের।
পাকিস্তানকে প্রশংসায় ভাসালেন ইরানের সেনাপ্রধান
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে বর্বর সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়। বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশুরাও প্রাণ হারায়।
জেনারেল মুসাভি বলেন, এই ১২ দিনের আগ্রাসন চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলকে সহায়তায় কোনো ঘাটতি রাখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলকে সহায়তা দিয়েছে বলেও জানান মুসাভি।
তিনি আরও বলেন, যদিও এই যুদ্ধে আমরা কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি—বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুতেই আমাদের কয়েকজন দক্ষ ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবুও আমরা শত্রুর লক্ষ্যপূরণে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছি, এমনকি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছি, তারা নিজেরাই অস্ত্রবিরতির অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছে।
আরও পড়ুন : এক শর্তে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারেন ট্রাম্প!
গত ১৩ জুন শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে ইসরাইল ইরানে বোমা হামলা চালিয়ে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীদের হত্যা করে। জবাবে, ইরানও ইসরাইলি শহরগুলোর দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই সংঘর্ষ এমন সময় শুরু হয় যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু ইসরাইলের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা সেই আলোচনা ভেস্তে দেয়। পরে ইরান দখলকৃত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবি করে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে অন্তত ৬২৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪,৯০০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে ২৮ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
ঢাকা ডেস্ক 









