০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • 55

বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবার (২১ জুন) রাতে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান— এই তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়াল দেশটি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কী করে সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্ববাসী।

হামলার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথটি বন্ধের অনুমোদন দিয়েছে।

রোববার (২২ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গণমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের জাতীয় সংসদের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কৌসারি বলেন, কমিশন হরমুজ প্রণালী বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছে। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বিশদ আলোচনার পর তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ‘ইরানকে পারমাণবিক বোমা দিতে চাইছে অনেক দেশ’

তিনি বলেন, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিষদ কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল আমদানি-রপ্তানি তথা বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এটি সহজেই বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে ইরান।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। প্রতি মাসে ৩ হাজারটিরও বেশি জাহাজ যা সামুদ্রিক কার্গোর একটি উচ্চ শতাংশ হিসেবে ধরা হয় এই চ্যানেল দিয়ে চলাচল করে থাকে।

যেহেতু এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে ইরানের হাতে, তাই যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই প্রণালী চরম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে।

 

আরও পড়ুন : ‘১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হয়ে উঠব’

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন রাতে হঠাৎ ইরানে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এ অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।

এরপর থেকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এরপর সেই থেকে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত উভয়দেশের অনেকে নিহত ও আহত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দিন দিন একে অপরের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়াচ্ছে।

এরই মধ্যে গত শনিবার রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

এবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের

সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শনিবার (২১ জুন) রাতে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান— এই তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়াল দেশটি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কী করে সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্ববাসী।

হামলার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথটি বন্ধের অনুমোদন দিয়েছে।

রোববার (২২ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গণমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের জাতীয় সংসদের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কৌসারি বলেন, কমিশন হরমুজ প্রণালী বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছে। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বিশদ আলোচনার পর তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ‘ইরানকে পারমাণবিক বোমা দিতে চাইছে অনেক দেশ’

তিনি বলেন, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিষদ কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল আমদানি-রপ্তানি তথা বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এটি সহজেই বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে ইরান।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। প্রতি মাসে ৩ হাজারটিরও বেশি জাহাজ যা সামুদ্রিক কার্গোর একটি উচ্চ শতাংশ হিসেবে ধরা হয় এই চ্যানেল দিয়ে চলাচল করে থাকে।

যেহেতু এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে ইরানের হাতে, তাই যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই প্রণালী চরম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে।

 

আরও পড়ুন : ‘১০ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হয়ে উঠব’

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন রাতে হঠাৎ ইরানে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এ অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।

এরপর থেকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এরপর সেই থেকে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত উভয়দেশের অনেকে নিহত ও আহত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দিন দিন একে অপরের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়াচ্ছে।

এরই মধ্যে গত শনিবার রাতে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।