০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সাভারের সেই ‘চেয়ারম্যান সুজনে’র কারাগারে মৃত্যু

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • 115

ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে হামলা করা সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন (৪৫) কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন।

রোববার (১৫ জুন) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগার সূত্র জানায়, বন্দি হিসেবে সুজন সূর্যমুখী ভবনের একটি সাধারণ কক্ষেই ছিলেন। তার ব‍্যবহৃত গামছা দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মারা যান তিনি।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, সুজন ডিটেনশনে সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে ছিলেন। এদিন সকালে সুজন নাস্তাও করেছেন। ওই কক্ষের তিনজন বন্দির একজন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছেন এবং আরেকজন ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে সুজন নিজের গামছা পেঁচিয়ে জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।

যা বলছেন কারা মহাপরিদর্শক

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, পরে তাকে উদ্ধার করে কারা হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যায় সে।

তিনি আরও বলেন, ‘সুজনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনেরও একাধিক মামলা রয়েছে। সম্ভবত অবসাদগ্রস্ত হয়ে তিনি এমন কাজ করতে পারেন। কিন্তু এটি অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বন্দি সুজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে সুজনকে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া, এলাকায় জমি দখলসহ আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা: ১ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ও শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সুজনও আত্মগোপনে চলে যান। তবে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

এর আগে, শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাবর এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সাভারের সেই ‘চেয়ারম্যান সুজনে’র কারাগারে মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে হামলা করা সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন (৪৫) কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন।

রোববার (১৫ জুন) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগার সূত্র জানায়, বন্দি হিসেবে সুজন সূর্যমুখী ভবনের একটি সাধারণ কক্ষেই ছিলেন। তার ব‍্যবহৃত গামছা দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মারা যান তিনি।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, সুজন ডিটেনশনে সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে ছিলেন। এদিন সকালে সুজন নাস্তাও করেছেন। ওই কক্ষের তিনজন বন্দির একজন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছেন এবং আরেকজন ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে সুজন নিজের গামছা পেঁচিয়ে জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।

যা বলছেন কারা মহাপরিদর্শক

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, পরে তাকে উদ্ধার করে কারা হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যায় সে।

তিনি আরও বলেন, ‘সুজনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনেরও একাধিক মামলা রয়েছে। সম্ভবত অবসাদগ্রস্ত হয়ে তিনি এমন কাজ করতে পারেন। কিন্তু এটি অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বন্দি সুজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে সুজনকে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া, এলাকায় জমি দখলসহ আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা: ১ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ও শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সুজনও আত্মগোপনে চলে যান। তবে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

এর আগে, শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাবর এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুজন।