টানা বৃষ্টিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জে টিলা ধসে শিশুসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১) রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার লাক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই এলাকার রিয়াজ উদ্দিন (৫০), তার স্ত্রী রহিমা বেগম (৪০), মেয়ে সামিয়া খাতুন (১৫) ও ছেলে আব্বাস উদ্দিন (১৩)।
একই পরিবারের চারজন নিহত
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে একটি টিলার নিচু অংশে বসবাস করে আসছিল। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে টিলার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে তাদের বাড়ির ওপর, এতে তারা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে যান।
লক্ষনাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলকুর রহমান বলেন, ‘টিলা ধসের ঘটনার ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা সবাই ছুটে আসেন। কিন্তু লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিক ও পুলিশকে খবর দেই। কিন্তু বৈরি পরিবেশের জন্য সকাল ছয়টার আগে ফায়ার সার্ভিস এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘ঝড় ও ভারী বর্ষণে গোলাপগঞ্জের রাখালগঞ্জ এলাকায় রাস্তার উপর বড় গাছ পড়ে রাস্তা ব্লক হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস গাছ কেটে আসার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ঢাকাদক্ষিণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ফলে আমার এলাকায় কেউ আসতে পারছে না। পরে সকাল ছয়টার কিছু পরে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে।’
নিজেরা উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এলাকাবাসীকে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছিলাম। কিন্তু যখন দ্বিতীয় দফায় টিলা ভেঙে মানুষগুলোকে মাটির নিচে নিয়ে যায় তখন আমি তাদের সরিয়ে নিয়ে এসেছি।’
আরও পড়ুন : মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবি, বহু হতাহতের শঙ্কা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের ধারণা, দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি টিলার কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং সেটি হঠাৎ ধসে পড়ার কারণ হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সুরক্ষার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালের কাছে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তরের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









