০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • 101

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের সময়সীমাও বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বুধবার (২৮ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা এপি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করার পরিকল্পনা করছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং এর সময়সূচি সম্প্রসারণের প্রস্তুতি হিসেবে কনস্যুলেট বিভাগগুলোতে নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্থগিতাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সাংবাদিকদের বলেন, ভিসার জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করতে সংশ্লিষ্ট সকল সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কারা আসছে, তারা ছাত্র হোক বা অন্য কেউ, তা মূল্যায়ন করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

সিএসবি নিউজ অভ্যন্তরীণ এই নির্দেশনার যে কপি হাতে পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—যেসব শিক্ষার্থী এখনও সাক্ষাৎকারের তারিখ পাননি, তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করতে হবে। তবে যাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগে থেকেই নির্ধারিত, তারা সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন।

এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক উত্তেজনাকর অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয় বামপন্থি চিন্তাধারায় প্রভাবিত এবং ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের আড়ালে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করছে।

হোয়াইট হাউস আরও অভিযোগ করেছে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ‘বৈষম্যমূলক ভর্তি নীতি’ বজায় রাখছে এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার খর্বের’ চেষ্টা করছে।

বিশেষভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসন হার্ভার্ডের বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিদেশি গবেষক রাখার অনুমোদন বাতিল করে। যদিও একটি ফেডারেল আদালত এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।

হার্ভার্ডে এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী বিদেশি। ফলে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য তা মারাত্মক আর্থিক ও শিক্ষাগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মূলত অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য নিজ নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এ ধরনের ভিসার প্রক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যম যাচাইয়ের প্রসার তাদের আবেদন প্রক্রিয়াকে জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চ টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই নীতিমালার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ পদক্ষেপ। গত সপ্তাহে, ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষমতা বাতিল করে। এরপর আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আপাতত একজন ফেডারেল বিচারক তা অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন।

 

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের সময়সীমাও বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বুধবার (২৮ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা এপি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করার পরিকল্পনা করছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং এর সময়সূচি সম্প্রসারণের প্রস্তুতি হিসেবে কনস্যুলেট বিভাগগুলোতে নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্থগিতাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সাংবাদিকদের বলেন, ভিসার জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করতে সংশ্লিষ্ট সকল সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কারা আসছে, তারা ছাত্র হোক বা অন্য কেউ, তা মূল্যায়ন করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

সিএসবি নিউজ অভ্যন্তরীণ এই নির্দেশনার যে কপি হাতে পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—যেসব শিক্ষার্থী এখনও সাক্ষাৎকারের তারিখ পাননি, তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করতে হবে। তবে যাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগে থেকেই নির্ধারিত, তারা সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন।

এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক উত্তেজনাকর অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয় বামপন্থি চিন্তাধারায় প্রভাবিত এবং ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের আড়ালে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করছে।

হোয়াইট হাউস আরও অভিযোগ করেছে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ‘বৈষম্যমূলক ভর্তি নীতি’ বজায় রাখছে এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার খর্বের’ চেষ্টা করছে।

বিশেষভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসন হার্ভার্ডের বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিদেশি গবেষক রাখার অনুমোদন বাতিল করে। যদিও একটি ফেডারেল আদালত এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।

হার্ভার্ডে এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী বিদেশি। ফলে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য তা মারাত্মক আর্থিক ও শিক্ষাগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মূলত অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য নিজ নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এ ধরনের ভিসার প্রক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যম যাচাইয়ের প্রসার তাদের আবেদন প্রক্রিয়াকে জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চ টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই নীতিমালার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ পদক্ষেপ। গত সপ্তাহে, ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষমতা বাতিল করে। এরপর আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আপাতত একজন ফেডারেল বিচারক তা অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন।