০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

টানা কর্মবিরতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • 70

পুরোনো ছবি

বিদ্যমান বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষের জেরে কর্মবিরতিতে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন এবং প্রধান শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন হচ্ছে।

সোমবার (০৫ মে) থেকে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এর ডাকে দেশজুড়ে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

কর্মবিরতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক

সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের এই দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে কর্মবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত দুই ঘণ্টা এবং ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয়, তবে ২৬ মে থেকে লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। তারা দীর্ঘদিন ধরে ১০ম গ্রেডের দাবি জানিয়ে এলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অন্তত শুরুতে ১১তম গ্রেডে বেতন চান।

আরও পড়ুন : শাস্তির মুখে বেসরকারি ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়

এ ছাড়া চাকরিতে ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির মতো দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের এক শীর্ষ নেতা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আজ সকাল থেকেই শিক্ষকরা তাদের কর্মবিরতি পালন করছেন।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, সরকার আমাদের দাবি মানেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আজ থেকে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছি। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকাল থেকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

১১তম গ্রেডের সুপারিশ

তবে সরকার গঠিত পরামর্শক কমিটি সহকারী শিক্ষকদের জন্য শুরুতে ১২তম গ্রেড এবং নির্দিষ্ট সময় পর ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। তবে শিক্ষকরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানিয়েছেন, বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের শুরুতে ১২তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং চার বছর পর তারা ১১তম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন। মন্ত্রণালয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ উন্নীত হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ উন্নীত করে ১২তম করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার গঠিত কমিটির প্রতিবেদনেও সুপারিশ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১১তম গ্রেডে বেতন পান। উচ্চ আদালতের রায়ে সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সহকারী শিক্ষকরাও তাদের বেতন গ্রেড বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

টানা কর্মবিরতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক

সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

বিদ্যমান বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষের জেরে কর্মবিরতিতে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন এবং প্রধান শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন হচ্ছে।

সোমবার (০৫ মে) থেকে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এর ডাকে দেশজুড়ে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

কর্মবিরতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক

সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের এই দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে কর্মবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত দুই ঘণ্টা এবং ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয়, তবে ২৬ মে থেকে লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। তারা দীর্ঘদিন ধরে ১০ম গ্রেডের দাবি জানিয়ে এলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অন্তত শুরুতে ১১তম গ্রেডে বেতন চান।

আরও পড়ুন : শাস্তির মুখে বেসরকারি ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়

এ ছাড়া চাকরিতে ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির মতো দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের এক শীর্ষ নেতা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আজ সকাল থেকেই শিক্ষকরা তাদের কর্মবিরতি পালন করছেন।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, সরকার আমাদের দাবি মানেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আজ থেকে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছি। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকাল থেকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

১১তম গ্রেডের সুপারিশ

তবে সরকার গঠিত পরামর্শক কমিটি সহকারী শিক্ষকদের জন্য শুরুতে ১২তম গ্রেড এবং নির্দিষ্ট সময় পর ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। তবে শিক্ষকরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানিয়েছেন, বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের শুরুতে ১২তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং চার বছর পর তারা ১১তম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন। মন্ত্রণালয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ উন্নীত হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ উন্নীত করে ১২তম করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার গঠিত কমিটির প্রতিবেদনেও সুপারিশ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১১তম গ্রেডে বেতন পান। উচ্চ আদালতের রায়ে সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সহকারী শিক্ষকরাও তাদের বেতন গ্রেড বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।