সারাবিশ্বে সাইবার জালিয়াতির ঘটনা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যেই ভারতের মহারাষ্ট্রে সামনে এলো এক নতুন ধরনের প্রতারণার ঘটনা। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি সাধারণ ছবি ডাউনলোড করেই এক যুবক খোয়ালেন দুই লাখ রুপিরও বেশি। প্রযুক্তির আধুনিক কৌশল ‘স্টেগানোগ্রাফি’ ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
কিভাবে ঘটল প্রতারণা?
মহারাষ্ট্রের ২৮ বছর বয়সী প্রদীপ জৈনের মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই নম্বর থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে একটি ছবি পাঠানো হয়, সঙ্গে লেখা, ‘আপনি কি এই ব্যক্তিকে চেনেন?’ প্রথমে ওই যুবক বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বারবার ফোন আসার কারণে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তিনি ছবিটি ডাউনলোড করেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিভীষিকাময় এক অধ্যায়। ছবি ডাউনলোড করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রদীপের অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় দুই লাখ ১০ হাজার রুপি।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই প্রতারণায় ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ‘স্টেগানোগ্রাফি’।
এই কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ ছবি, অডিও, ভিডিও বা পিডিএফ ফাইলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয় ক্ষতিকর কোড, যা সাধারণভাবে খালি চোখে দেখা যায় না এবং অনেক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারও তা ধরতে পারে না। এই কোড একবার অ্যাকটিভ হলে, সেটি মোবাইল বা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য, যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাসওয়ার্ড, ওটিপি হাতিয়ে নেয়।
কোন ফাইল ফরম্যাটে থাকে বিপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলার জন্য জেপিজি, পিএনজি, এমপি৩, এমপি৪ ও পিডিএফ ফাইল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ এই ফরম্যাটগুলো সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহজেই শেয়ার হয়।
ফলে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই সতর্কতা অবলম্বন না করেই এগুলো খুলে ফেলেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ :
- অজানা নম্বর থেকে আসা ফাইল ডাউনলোড না করা
- হোয়াটসঅ্যাপের অটো-ডাউনলোড ফিচার বন্ধ রাখা
- ফোনে সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করা
- ওটিপি বা ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার না না করা
- হোয়াটসঅ্যাপে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ ফিচার চালু রাখা
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কে আপনাকে অ্যাড করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা
- সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ঢাকা ডেস্ক 









