পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই শোভাযাত্রার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ জানান, এবার ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হবে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
তিনি বলেন, এবারের শোভাযাত্রায় ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন মোটিফ প্রদর্শন করা হবে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি নতুন বর্ষবরণ উৎসব।
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এটি প্রবর্তিত হয়।
একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসাবে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
আরও পড়ুন : ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নারীকে কোপালেন জাকারিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রতিবছরই শাহবাগ-রমনা এলাকায় এই আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
শোভাযাত্রায় চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়।
এছাড়াও বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, বিভিন্ন রঙ-এর মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়।
তবে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে প্রায় প্রতি জেলাসদরে এবং বেশ কিছু উপজেলা সদরে পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজন করা হয়।
বর্তমানে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলাদেশের নবতর সর্বজনীন সংস্কৃতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে।
ঢাকা ডেস্ক 









