বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) থেকেই অবসরে যান আলোচিত অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে থাকেন। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নিয়ে আজ একটি পোস্ট করেছেন তিনি । যেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির অতীত এবং বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি না অসঙ্গতির কথা বলেছেন।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে তিনি তার বেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ স্ট্যাটাস দেন।
দৈনিক ঢাকার পাঠকদের জন্য মো. মাহবুব কবীর মিলনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
তিনি লিখেছেন, আপনারা কি জানেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা (পূর্বের বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট) কোন মন্ত্রণালয়ের আন্ডারে। মন্ত্রী কে? সচিব কে?
সেই বিডা বা আগের বিওআই-কে যদি নিধিরাম সর্দার করে রাখা হয়, সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব বা অফিসে বিডার কোনো পাত্তা না থাকে, গুরুত্ব না থাকে, চিঠিপত্র পড়ে থাকে। বিডার কথা বা চিঠির গুরুত্ব যদি অন্যকোনো সরকারি অফিস না দেয়। বিডার নাম শুনলে যদি অন্য অফিস হাসি-তামাশা করে।
বিডা প্রাণান্তকর চেষ্টা করার পরেও মন্ত্রী, সচিবদের অসহযোগীতার কারণে যদি বিনিয়োগকারীরা ফিরে যায়। বিডার চেয়ারম্যান, কর্মকর্তাদের যদি হায় হায় করে মাথা চাপড়াতে হয়।
বিডার একাধিক চেয়ারম্যানকে যদি আফসোস করে বলতে হয়, “কিছুই করতে পারলাম না। কেউ কথা শোনেনা”।
তাহলে বলতে পারেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়বে কিভাবে!! বিদেশিরা বাড়িঘর ফেলে হাজার হাজার মাইল দূরে আপনার দেশে এসে বিনিয়োগ করবে কেন!!
চট্টগ্রামে অন্যান্য সরকারি অফিস থেকে ভয়াবহ হ্যারাসমেন্ট এর শিকার হয়ে বিনিয়োগ বোর্ডে আমার অফিসে এসে কেঁদে ফেলত বিদেশিরা। চাইনিজ, জাপানীজ অনেক বিনিয়োগকারীকে কাঁদতে দেখেছি। আমার অফিসের সবাই তার স্বাক্ষী। বলতে পারেন, এই দেশে এফডিআই বাড়বে কিভাবে!!
বর্তমান চেয়ারম্যান এর আগে এমন একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যার অর্ডার দেখে আমি শুধু হতভম্ব নই, হার্টফেল করার উপক্রম হয়েছিল। হার্টফেল করার উপক্রম হয়েছিল অনেকের। সেটাই ছিল বিডা নামক কফিনের শেষ পেরেক।
এই দেশ ধ্বংসের পিছনে অনেকাংশেই আমলারাই দায়ী। বিশেষ করে গত ১৬ বছরের কিছু আমলা। এদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া প্রয়োজন ছিল।
বিডার মন্ত্রণালয়, সচিব কে? পিএম অফিস। সচিব হচ্ছে, পিএম অফিসের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং পিএম এর সেক্রেটারি। এখন প্রধান উপদেষ্টার অফিস বা কার্যালয়। তিনিই মন্ত্রী বিডার।
এবার বুঝলেন, বর্তমানে ব্যাটে-বলে ফাটাফাটি কেমন হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কেমন হতে পারে!! এই কম্বিনেশনই দরকার প্রত্যেক সরকারি অফিসে। ৩০ বছর চাকুরি করেছি, আকুল হয়ে অপেক্ষা করেছি, এমন একটি মহেন্দ্রক্ষণ বা কম্বিনেশনের। পাইনি। যা পেয়েছি, তা ছিল গতানুগতিক।
ঢাকা ডেস্ক 









