০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যে সিনেমার টিকিটের জন্য রাস্তায় রাত কাটিয়েছিলেন দর্শকরা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • 48

কিছু সিনেমা সময়কে হার মানায়, তৈরি করে নতুন ইতিহাস। এমন একটি সিনেমা ‘মুঘল-এ-আজম’। বলিউডের অন্যতম ক্লাসিক সিনেমা এটি। সিনেমাটি মুক্তির সময় মানুষের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল, তা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, কে আসিফ পরিচালিত এই ঐতিহাসিক সিনেমাটি ছিল সে সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা, যা নির্মাণে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। তবে এই প্রতীক্ষা সার্থক হয়েছিল, কারণ সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকরা পাগলের মতো টিকিট সংগ্রহের জন্য লাইন দিয়েছিল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান অভিনেতা রাজা মুরাদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, সোমবারের অ্যাডভান্স বুকিংয়ের জন্য মানুষ শনিবার থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যেত। আমি নিজে দেখেছি, লোকজন রাস্তায় রাত পার করেছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা খাবার এনে দিত, আর তারা অপেক্ষা করত শুধুমাত্র সিনেমাটির টিকিট কেনার জন্য। সেই লাইন বম্বে সেন্ট্রাল থেকে মালাক্সমি পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে ছিল।

রাজা মুরাদের বাবা হামিদ আলি মুরাদও এই সিনেমার অংশ ছিলেন, তিনি রাজা মান সিং-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। রাজা মুরাদ মনে করেন, এই সিনেমার পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয় এবং কেউ যদি এটি করার চেষ্টা করে, তাহলে ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ঈশ্বর যেন মধুবালা, কেআসিফ এবং পৃথ্বীরাজ কাপুরকে এই বিশেষ কাজের জন্যই পাঠিয়েছিলেন। তারা ‘মুঘল-এ-আজম’ তৈরি করলেন এবং এরপর সবাই একে একে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। সত্যিই, সিনেমাটি মুক্তির ১২ বছরের মধ্যে এই তিন কিংবদন্তির সবাই প্রয়াত হন।

সেই সময় পুরো সিনেমাটি সাদা-কালোতে চিত্রায়িত হলেও, পরিচালক কেআসিফ ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কিয়া’ গানটি রঙিন শুটিং করেন, যা সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এই সিনেমার শুটিং চলাকালীনই দিলীপ কুমার ও মধুবালার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবসান ঘটে। ফলে, পর্দায় তারা প্রেমিক-প্রেমিকার ভূমিকায় থাকলেও বাস্তবে একে অপরের সঙ্গে কথাও বলতেন না। বলিউডের ইতিহাসে ‘মুঘল-এ-আজম’ এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, যার প্রভাব আজও অক্ষুণ্ণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

যে সিনেমার টিকিটের জন্য রাস্তায় রাত কাটিয়েছিলেন দর্শকরা

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

কিছু সিনেমা সময়কে হার মানায়, তৈরি করে নতুন ইতিহাস। এমন একটি সিনেমা ‘মুঘল-এ-আজম’। বলিউডের অন্যতম ক্লাসিক সিনেমা এটি। সিনেমাটি মুক্তির সময় মানুষের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল, তা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, কে আসিফ পরিচালিত এই ঐতিহাসিক সিনেমাটি ছিল সে সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা, যা নির্মাণে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। তবে এই প্রতীক্ষা সার্থক হয়েছিল, কারণ সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকরা পাগলের মতো টিকিট সংগ্রহের জন্য লাইন দিয়েছিল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান অভিনেতা রাজা মুরাদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, সোমবারের অ্যাডভান্স বুকিংয়ের জন্য মানুষ শনিবার থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যেত। আমি নিজে দেখেছি, লোকজন রাস্তায় রাত পার করেছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা খাবার এনে দিত, আর তারা অপেক্ষা করত শুধুমাত্র সিনেমাটির টিকিট কেনার জন্য। সেই লাইন বম্বে সেন্ট্রাল থেকে মালাক্সমি পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে ছিল।

রাজা মুরাদের বাবা হামিদ আলি মুরাদও এই সিনেমার অংশ ছিলেন, তিনি রাজা মান সিং-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। রাজা মুরাদ মনে করেন, এই সিনেমার পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয় এবং কেউ যদি এটি করার চেষ্টা করে, তাহলে ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ঈশ্বর যেন মধুবালা, কেআসিফ এবং পৃথ্বীরাজ কাপুরকে এই বিশেষ কাজের জন্যই পাঠিয়েছিলেন। তারা ‘মুঘল-এ-আজম’ তৈরি করলেন এবং এরপর সবাই একে একে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। সত্যিই, সিনেমাটি মুক্তির ১২ বছরের মধ্যে এই তিন কিংবদন্তির সবাই প্রয়াত হন।

সেই সময় পুরো সিনেমাটি সাদা-কালোতে চিত্রায়িত হলেও, পরিচালক কেআসিফ ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কিয়া’ গানটি রঙিন শুটিং করেন, যা সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এই সিনেমার শুটিং চলাকালীনই দিলীপ কুমার ও মধুবালার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবসান ঘটে। ফলে, পর্দায় তারা প্রেমিক-প্রেমিকার ভূমিকায় থাকলেও বাস্তবে একে অপরের সঙ্গে কথাও বলতেন না। বলিউডের ইতিহাসে ‘মুঘল-এ-আজম’ এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, যার প্রভাব আজও অক্ষুণ্ণ।