০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

‘আসছি’ বলে সাগরে হারিয়ে গেলেন চবির তিন বন্ধু

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • 102

কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে সাগরে ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, অপর দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম কে এম সাদমান রহমান সাবাব, বাড়ি ঢাকার মিরপুরে। নিখোঁজ দুজন হলেন আসিফ আহমেদ ও অরিত্র হাসান, যাদের উভয়ের বাড়ি বগুড়ায়। তাঁরা তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সঙ্গে থাকা চবি আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ মিয়া জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে তাঁরা হিমছড়ি জাদুঘরের পাশে সমুদ্রসৈকতে যান। ছবি তোলার সময় বৃষ্টি শুরু হলে দুজন ছাতা নিয়ে ফিরে আসেন, কিন্তু সাদমান, আসিফ ও অরিত্র সাগরে থেকে যান। বারবার ডেকে ওঠার অনুরোধ জানানো হলেও তাঁরা বলছিলেন, “আসছি, আসছি।” পাশেই থাকা জেলেরা সতর্ক করলেও শেষ পর্যন্ত তারা আর তীরে ফিরতে পারেননি।

আরও পড়ুন : সাগরের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেল চবির ৩ শিক্ষার্থীকে

কিছুক্ষণ পর সাবাবের মরদেহ সাগর থেকে ভেসে আসে। তবে বাকি দুজনকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার হিমছড়ি তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক সোমনাথ বসু বলেন, “সাবাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্য দুজনের সন্ধানে কাজ চলছে।”

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম জানান, “সাগরের স্রোত এতটাই প্রবল যে ডুবুরি নামানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

লাইফ গার্ড সংস্থা সি-সেইফ লাইফ গার্ড-এর জ্যেষ্ঠ কর্মী মো. ওসমান জানান, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং জোয়ার চলছিল, যা পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক সময়।

চবি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ বিন কামাল চৌধুরী বলেন, “প্রথম বর্ষের চার শিক্ষার্থী নিজেদের উদ্যোগে কক্সবাজারে গিয়েছিল। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি এবং বিভাগ থেকে কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাগরের অনিরাপদ সময় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

‘আসছি’ বলে সাগরে হারিয়ে গেলেন চবির তিন বন্ধু

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে সাগরে ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, অপর দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম কে এম সাদমান রহমান সাবাব, বাড়ি ঢাকার মিরপুরে। নিখোঁজ দুজন হলেন আসিফ আহমেদ ও অরিত্র হাসান, যাদের উভয়ের বাড়ি বগুড়ায়। তাঁরা তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সঙ্গে থাকা চবি আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ মিয়া জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে তাঁরা হিমছড়ি জাদুঘরের পাশে সমুদ্রসৈকতে যান। ছবি তোলার সময় বৃষ্টি শুরু হলে দুজন ছাতা নিয়ে ফিরে আসেন, কিন্তু সাদমান, আসিফ ও অরিত্র সাগরে থেকে যান। বারবার ডেকে ওঠার অনুরোধ জানানো হলেও তাঁরা বলছিলেন, “আসছি, আসছি।” পাশেই থাকা জেলেরা সতর্ক করলেও শেষ পর্যন্ত তারা আর তীরে ফিরতে পারেননি।

আরও পড়ুন : সাগরের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেল চবির ৩ শিক্ষার্থীকে

কিছুক্ষণ পর সাবাবের মরদেহ সাগর থেকে ভেসে আসে। তবে বাকি দুজনকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার হিমছড়ি তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক সোমনাথ বসু বলেন, “সাবাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্য দুজনের সন্ধানে কাজ চলছে।”

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম জানান, “সাগরের স্রোত এতটাই প্রবল যে ডুবুরি নামানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”

লাইফ গার্ড সংস্থা সি-সেইফ লাইফ গার্ড-এর জ্যেষ্ঠ কর্মী মো. ওসমান জানান, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং জোয়ার চলছিল, যা পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক সময়।

চবি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ বিন কামাল চৌধুরী বলেন, “প্রথম বর্ষের চার শিক্ষার্থী নিজেদের উদ্যোগে কক্সবাজারে গিয়েছিল। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি এবং বিভাগ থেকে কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাগরের অনিরাপদ সময় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।