১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইতিহাস গড়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পিএসজির

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • 114

অবশেষে ইউরোপ জয়ের স্বাদ পেল পিএসজি। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন পারি সা জার্মেই, তাও আবার ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। ফাইনালে এতো বড় ব্যবধানের জয়ও প্রথম।

ইউরোপ সেরা হবার অনুভুতি কেমন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখতে হবে পিএসজির উদযাপন। এ যেন অসাধ্যকে সাধন করল লা পারিসিয়ান। এই একটা ট্রফির জন্য কত কিছুইনা করেছে ফরাসি জায়ান্টরা, অবশেষে দিলো ধরা। ডেভিড বেকহ্যাম, রোনালদিনিয়ো থেকে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেরা যা করে দেখাতে পারেনি, সেটাই করে দেখালেন দেম্বেলে, দুয়েরা।

শুধু শিরোপা নয়, ফাইনালে ইন্টারকে বিধ্বস্ত করে ইতিহাস গড়েছে লুইস এনরিকের দল। প্রথমবার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে গোলের ব্যবধান ৫-০।

একই ফ্রেমে আনন্দ-বেদনা, দেড় দশকের খরা কাটানো হলো না নেরাজ্জুরিদের। যাদের কিনা দেড় মাস আগে সুযোগ ছিল ট্রেবল জয়ের, তবে মৌসুম শেষে শূন্য হাতে ফিরল সিমোনে ইনজাঘির দল। তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপাটা ছোঁয়া হলোনা ইতালিয়ান বসের।

প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পিএসজির

ইতিহাসের পাতায় লুইস এনরিক। ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একবারের বেশি ট্রেবল জয়ের এলিট ক্লাসে নাম লেখালেন স্প্যানিশ ট্যাকটিশিয়ান। তার আগে এই কীর্তি আছে শুধু পেপ গার্দিওয়ালার।

মিউনিখ দখলে নিয়েছিল পিএসজি সমর্থকরা। তাদেরও হতাশ করেনি পারি সা জার্মেই। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড। দিজিরে দুয়ের পাস থেকে স্কোরশিটে নাম লেখান আশরাফ হাকিমি। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ছিলো না গোল উদযাপন।

প্রথম গোলের কারিগর এবার অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় জালের দেখা পেয়েছেন। সবচেয়ে কম ১৯ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান। ৬৩ থেকে ৮৪ আরও তিন গোল ইতালিয়ান জায়ান্টদের জালে। দুয়ে পূর্ণ করেন জোড়া।

কাভারাৎস্খেলিয়া ও আরেক তরুণ তুর্কি সিনে মায়ুলু জয়ের আনন্দ বড় করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুমে ১৩ গোলে অবদান ওসমান দেম্বেলের। পিএসজি জার্সিতে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পেকে। ব্যালন ডি অর জয়ের যোগ্য দাবিদার ফরাসি তারকা।

নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ইউরোপ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিউনিখের ইতিহাস অক্ষুণ্ন রইলো। পাঁচ ফাইনালে প্রতিবারই নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ইউরোপ।

ফ্রান্সের দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয় করলো পিএসজি। তাদের আগে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথম ফরাসি দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছিল মার্চেই। সেবার ফাইনালে তারা এই মিউনিখে‌ই হারিয়েছিল আরেক ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানকে (১-০ গোলে)।

প্রমাণ হলো মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপেদের ছাড়াই ইউরোপের সেরা ক্লাব হতে পারে পিএসজি। ১৪ বছর আগে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ পিএসজি কেনার পর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলেছে একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আশায়।

হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে তারা দলে নিয়েছিল বিশ্বসেরা তিনজন- লিওনেল মেসি, নেইমার ও চিলিয়ান এমবাপের মতো ফুটবলারকে; কিন্তু তারা যেটা করতে পারেনি, সেটা তাদের ছাড়াই করে দেখাল পিএসজি। অথচ, এক বছর আগে এমবাপেও যখন সর্বশেষ তারকা হিসেবে পিএসজি ছেড়ে যায় তখন অনেকেই ভেবেছিল প্যারিসের ক্লাবটির সোনালি দিন শেষ হয়ে গেল; কিন্তু সেটাকে ভুল প্রমাণ করলেন ওসমান ডেম্বেলেরা।

ম্যাচের ৬০ শতাংশ বলের দখলে ছিল পিএসজির। যে ৪০ শতাংশ ইন্টারের দখলে ছিল, তা ছিল কেবল পিএসজির আক্রমণ ঠেকানোর বলগুলোই। পুরো ম্যাচে মাত্র দুইবার পিএসজির পোস্ট লক্ষ্যে শট নিতে পেরেছিল ইন্টার। আটবার শট নিয়েছিল পিএসজি, যার পাঁচটিই জড়িয়ে যায় ইন্টারের জালে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ইতিহাস গড়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পিএসজির

সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

অবশেষে ইউরোপ জয়ের স্বাদ পেল পিএসজি। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন পারি সা জার্মেই, তাও আবার ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। ফাইনালে এতো বড় ব্যবধানের জয়ও প্রথম।

ইউরোপ সেরা হবার অনুভুতি কেমন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখতে হবে পিএসজির উদযাপন। এ যেন অসাধ্যকে সাধন করল লা পারিসিয়ান। এই একটা ট্রফির জন্য কত কিছুইনা করেছে ফরাসি জায়ান্টরা, অবশেষে দিলো ধরা। ডেভিড বেকহ্যাম, রোনালদিনিয়ো থেকে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেরা যা করে দেখাতে পারেনি, সেটাই করে দেখালেন দেম্বেলে, দুয়েরা।

শুধু শিরোপা নয়, ফাইনালে ইন্টারকে বিধ্বস্ত করে ইতিহাস গড়েছে লুইস এনরিকের দল। প্রথমবার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে গোলের ব্যবধান ৫-০।

একই ফ্রেমে আনন্দ-বেদনা, দেড় দশকের খরা কাটানো হলো না নেরাজ্জুরিদের। যাদের কিনা দেড় মাস আগে সুযোগ ছিল ট্রেবল জয়ের, তবে মৌসুম শেষে শূন্য হাতে ফিরল সিমোনে ইনজাঘির দল। তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপাটা ছোঁয়া হলোনা ইতালিয়ান বসের।

প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পিএসজির

ইতিহাসের পাতায় লুইস এনরিক। ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একবারের বেশি ট্রেবল জয়ের এলিট ক্লাসে নাম লেখালেন স্প্যানিশ ট্যাকটিশিয়ান। তার আগে এই কীর্তি আছে শুধু পেপ গার্দিওয়ালার।

মিউনিখ দখলে নিয়েছিল পিএসজি সমর্থকরা। তাদেরও হতাশ করেনি পারি সা জার্মেই। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড। দিজিরে দুয়ের পাস থেকে স্কোরশিটে নাম লেখান আশরাফ হাকিমি। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ছিলো না গোল উদযাপন।

প্রথম গোলের কারিগর এবার অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় জালের দেখা পেয়েছেন। সবচেয়ে কম ১৯ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান। ৬৩ থেকে ৮৪ আরও তিন গোল ইতালিয়ান জায়ান্টদের জালে। দুয়ে পূর্ণ করেন জোড়া।

কাভারাৎস্খেলিয়া ও আরেক তরুণ তুর্কি সিনে মায়ুলু জয়ের আনন্দ বড় করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুমে ১৩ গোলে অবদান ওসমান দেম্বেলের। পিএসজি জার্সিতে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পেকে। ব্যালন ডি অর জয়ের যোগ্য দাবিদার ফরাসি তারকা।

নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ইউরোপ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিউনিখের ইতিহাস অক্ষুণ্ন রইলো। পাঁচ ফাইনালে প্রতিবারই নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ইউরোপ।

ফ্রান্সের দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয় করলো পিএসজি। তাদের আগে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথম ফরাসি দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছিল মার্চেই। সেবার ফাইনালে তারা এই মিউনিখে‌ই হারিয়েছিল আরেক ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানকে (১-০ গোলে)।

প্রমাণ হলো মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপেদের ছাড়াই ইউরোপের সেরা ক্লাব হতে পারে পিএসজি। ১৪ বছর আগে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ পিএসজি কেনার পর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলেছে একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আশায়।

হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে তারা দলে নিয়েছিল বিশ্বসেরা তিনজন- লিওনেল মেসি, নেইমার ও চিলিয়ান এমবাপের মতো ফুটবলারকে; কিন্তু তারা যেটা করতে পারেনি, সেটা তাদের ছাড়াই করে দেখাল পিএসজি। অথচ, এক বছর আগে এমবাপেও যখন সর্বশেষ তারকা হিসেবে পিএসজি ছেড়ে যায় তখন অনেকেই ভেবেছিল প্যারিসের ক্লাবটির সোনালি দিন শেষ হয়ে গেল; কিন্তু সেটাকে ভুল প্রমাণ করলেন ওসমান ডেম্বেলেরা।

ম্যাচের ৬০ শতাংশ বলের দখলে ছিল পিএসজির। যে ৪০ শতাংশ ইন্টারের দখলে ছিল, তা ছিল কেবল পিএসজির আক্রমণ ঠেকানোর বলগুলোই। পুরো ম্যাচে মাত্র দুইবার পিএসজির পোস্ট লক্ষ্যে শট নিতে পেরেছিল ইন্টার। আটবার শট নিয়েছিল পিএসজি, যার পাঁচটিই জড়িয়ে যায় ইন্টারের জালে।