০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হাসপাতালের আইসিইউতে শোনানো হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • 109

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। পুরোনো ছবি

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিনই চিকিৎসাসেবা নিতে যান হাজার হাজার রোগী।

এ রোগীদের ভর্তির পর রোগের ধরন অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

তবে যেসব রোগীর জীবন সংকটাপন্ন তাদের ওয়ার্ড থেকে নেওয়া হয় রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের আইসিইউতে। সেই সময় রোগীর স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার সাহায্য প্রার্থনা করেন। পুনরায় তার রোগীর যেন জীবন ফিরে পায়।

আবার অনেক রোগীর এই আইসিইউ বেডে যখন মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকেন। তখন তার শেষ যাত্রাটি ঈমানের সহিত হয়, সেটি রোগীদের স্বজনদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে।

কিন্তু যেহেতু আইসিইউ এমন একটি জায়গা যেখানে রোগীর স্বজনদের ইচ্ছামতো প্রবেশাধিকার থাকে না। তাই সেই কাজটি এখন রোগীদের স্বজনদের পক্ষ থেকে করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রোগীদের হেডফোনের মাধ্যমে কোরআনের বাণী শোনানোর উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও মুসলিম ছাড়া অন্যান্য ধর্মালম্বী রোগীদের জন্যও তাদের ধর্মীয় বাণী শোনানোর ব্যবস্থাও নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে দীর্ঘ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস লিখেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু মোস্তফা হেনা।

তার এই স্ট্যাটাস টি হুবহু দৈনিক ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

 

ফেসবুক স্ট্যাটাস

‘২০১১ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ চালু করার পর থেকে অনেক রোগীর স্বজনরা আমাকে অনুরোধ করে থাকেন, তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর সময় যেন নিজ ধর্মীয় বাণী শোনানো হয়। নানান কারণে এত দিন এটা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কৃপায়, একজন ব্যক্তির অনুদানের কারণে আজ থেকে মৃতপ্রায় রোগীর স্বজনদের চাহিদা সাপেক্ষে নিজ ধর্ম অনুযায়ী হেডফোনের মাধ্যমে শোনার ব্যবস্থা করতে পেরেছি।’

‘আজ প্রথম দিন, পবিত্র কোরআন মাজিদ রেকর্ড করা তেলওয়াত দুজন মৃত্যুপ্রায় রোগীকে শোনানো শুরু হলো। আলহামদুলিল্লাহ। এতে অনেক রোগীর স্বজনরা এটাতে মানসিক শান্তি পাবেন।’

আরও পড়ুন : জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষ, চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ

‘শুধুমাত্র আইসিইউতে ভর্তি রোগীর স্বজনদের চাহিদা অনুযায়ী কোরআন মাজিদের তেলওয়াত বা দোয়াগুলোর রেকর্ড শোনানো হবে।’

‘হিন্দু ধর্মের জন্য গীতা এবং খৃষ্টান ধর্মালম্বী দের জন্য বাইবেল শোনানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে,’ লিখেছেন তিনি।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আইসিইউতে ভর্তি রোগীর স্বজনদের দীর্ঘ দিনের একটা চাহিদা (শেষ সময়ে ধর্মের বাণী পৌঁছানোর) পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪০ শয্যার আইসিইউর প্রতিটি রোগী আপনাদের দোয়ায় থাকবে এ কামনা করছি।’

 

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আইসিইউ এমন একটা জায়গায় সেখানে রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকে। যারা সৌভাগ্যবান তারা জীবন নিয়ে ফিরে আসে। তবে একেবারেই যাদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে যায়, এই মুহূর্তে ধর্মীয় বাণী তাদের কানে পৌঁছিলে, তারা আত্মিক দিক থেকে শান্তি পায়। ডা. আবু হেনা মোস্তফার এমন উদ্যোগ প্রশংসা দাবিদার বলে জানান এই চিকিৎসক।

এর আগে চলতি বছরে রোগীর স্বজনদের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের জন্য বিশ্রাম কক্ষে ‘আইসিইউ বুক কর্নার’ এর ব্যবস্থা করেছে সংশ্লিষ্টরা। এই বুক কর্ণারে বিভিন্ন লেখকের ৫০টির বেশি বই রয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

হাসপাতালের আইসিইউতে শোনানো হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত

সর্বশেষ আপডেট : ১০:১১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিনই চিকিৎসাসেবা নিতে যান হাজার হাজার রোগী।

এ রোগীদের ভর্তির পর রোগের ধরন অনুযায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

তবে যেসব রোগীর জীবন সংকটাপন্ন তাদের ওয়ার্ড থেকে নেওয়া হয় রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের আইসিইউতে। সেই সময় রোগীর স্বজনরা সৃষ্টিকর্তার সাহায্য প্রার্থনা করেন। পুনরায় তার রোগীর যেন জীবন ফিরে পায়।

আবার অনেক রোগীর এই আইসিইউ বেডে যখন মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকেন। তখন তার শেষ যাত্রাটি ঈমানের সহিত হয়, সেটি রোগীদের স্বজনদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে।

কিন্তু যেহেতু আইসিইউ এমন একটি জায়গা যেখানে রোগীর স্বজনদের ইচ্ছামতো প্রবেশাধিকার থাকে না। তাই সেই কাজটি এখন রোগীদের স্বজনদের পক্ষ থেকে করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রোগীদের হেডফোনের মাধ্যমে কোরআনের বাণী শোনানোর উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও মুসলিম ছাড়া অন্যান্য ধর্মালম্বী রোগীদের জন্যও তাদের ধর্মীয় বাণী শোনানোর ব্যবস্থাও নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে দীর্ঘ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস লিখেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু মোস্তফা হেনা।

তার এই স্ট্যাটাস টি হুবহু দৈনিক ঢাকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

 

ফেসবুক স্ট্যাটাস

‘২০১১ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ চালু করার পর থেকে অনেক রোগীর স্বজনরা আমাকে অনুরোধ করে থাকেন, তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর সময় যেন নিজ ধর্মীয় বাণী শোনানো হয়। নানান কারণে এত দিন এটা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কৃপায়, একজন ব্যক্তির অনুদানের কারণে আজ থেকে মৃতপ্রায় রোগীর স্বজনদের চাহিদা সাপেক্ষে নিজ ধর্ম অনুযায়ী হেডফোনের মাধ্যমে শোনার ব্যবস্থা করতে পেরেছি।’

‘আজ প্রথম দিন, পবিত্র কোরআন মাজিদ রেকর্ড করা তেলওয়াত দুজন মৃত্যুপ্রায় রোগীকে শোনানো শুরু হলো। আলহামদুলিল্লাহ। এতে অনেক রোগীর স্বজনরা এটাতে মানসিক শান্তি পাবেন।’

আরও পড়ুন : জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষ, চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ

‘শুধুমাত্র আইসিইউতে ভর্তি রোগীর স্বজনদের চাহিদা অনুযায়ী কোরআন মাজিদের তেলওয়াত বা দোয়াগুলোর রেকর্ড শোনানো হবে।’

‘হিন্দু ধর্মের জন্য গীতা এবং খৃষ্টান ধর্মালম্বী দের জন্য বাইবেল শোনানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে,’ লিখেছেন তিনি।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আইসিইউতে ভর্তি রোগীর স্বজনদের দীর্ঘ দিনের একটা চাহিদা (শেষ সময়ে ধর্মের বাণী পৌঁছানোর) পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪০ শয্যার আইসিইউর প্রতিটি রোগী আপনাদের দোয়ায় থাকবে এ কামনা করছি।’

 

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আইসিইউ এমন একটা জায়গায় সেখানে রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকে। যারা সৌভাগ্যবান তারা জীবন নিয়ে ফিরে আসে। তবে একেবারেই যাদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে যায়, এই মুহূর্তে ধর্মীয় বাণী তাদের কানে পৌঁছিলে, তারা আত্মিক দিক থেকে শান্তি পায়। ডা. আবু হেনা মোস্তফার এমন উদ্যোগ প্রশংসা দাবিদার বলে জানান এই চিকিৎসক।

এর আগে চলতি বছরে রোগীর স্বজনদের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের জন্য বিশ্রাম কক্ষে ‘আইসিইউ বুক কর্নার’ এর ব্যবস্থা করেছে সংশ্লিষ্টরা। এই বুক কর্ণারে বিভিন্ন লেখকের ৫০টির বেশি বই রয়েছে।