০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশ কি মধ্যস্থতা করতে পারে?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • 62

ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। এরমধ্যে পানিচুক্তি স্থগিত, বাণিজ্য বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যুদ্ধের মহড়া ইত্যাদির নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অবশেষে ভূখণ্ডে হামলা-পাল্টা হামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

বুধবার (৭ মে) পাকিস্তানে সরাসরি হামলা করে ভারত। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করেছে পাকিস্তান। যদিও ভারত দাবি করছে, এই হামলায় নিহত হয়েছে ৭০ জনেরও বেশি।

ভারতের হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ১০ ভারতীয় নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনটি রাফায়েল বিমানসহ মোট পাঁচটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান।

এরইমধ্যে ভারতীয় হামলার পাল্টা জবাব দিতে সেনাবাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি)। ধারণা করা হচ্ছে ভারত যেভাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালিয়েছে, এবার পাকিস্তানও একইভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলা করবে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী এর মাধ্যমে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। আর তেমনটি হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ প্রবল ঝাঁকুনি খাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্য; ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিশ্বঅর্থনীতি।

বাংলাদেশের অবস্থান কী?

ভারত-পাকিস্তানের ভেতরে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৭ মে) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে উভয় দেশকে শান্ত থাকার কথা আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ভারত ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং উভয় দেশকে শান্ত থাকার, সংযত থাকার এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার চেতনায়, বাংলাদেশ আশাবাদী যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে শান্তি বিরাজ করবে।

এদিকে বাংলাদেশের এই অবস্থানকে সঠিক বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম। আরটিভির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর কিছু হবে না। এ দুই দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে কেউ জিতবে না। বরং দুটিই পক্ষই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমোড়লদের কেউ কেউ হয়তো চাইছেন উভয় দেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক। তাতে তাদের প্রভাব, অস্ত্রবিক্রি বা ব্যবসার সুযোগ বাড়বে। কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দুটি দেশের জন্যই যে বোকামি হবে, ধ্বংস ডেকে আনবে, সেটি দুই দেশের নীতি নির্ধারকদেরকেই বুঝতে হবে।

বাংলাদেশ কি মধ্যস্থতা করতে পারে?

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও বিশ্বব্যাপী ক্লিন ইমেজ তার সরকারের প্রতি বিশ্বমোড়লদের প্রশ্নহীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন এনে দিয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গেই ড. ইউনূসের সরকার যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া দুই দেশের ভেতরে উত্তেজনা প্রশমনেও বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি নিয়েও চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. শামছুল আলম আরটিভিকে বলেন, ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের ঐতিহাসিক বৈরীতা রয়েছে। এখানে মধ্যস্থতা ভীষণ কঠিন। কিন্তু ড. ইউনূসের যে পরিচিতি আছে, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আছে, তিনি প্রস্তাব দিতেই পারেন। সেটি দু’পক্ষ কতটা গ্রহণ করবে সেটা পরের বিষয়। কিন্তু এতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্বল হবে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের মানুষই যুদ্ধ চায় না। আমরাও চাই না। তাই দেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের মধ্যস্থতার প্রস্তাবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও একমত হবে। জিয়াউর রহমানও আন্তর্জাতিক বিবাদে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। ড. ইউনূসের পক্ষ থেকেও আমরা তেমনটাই আশা করি।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ শামস মুরসালিন আরটিভিকে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে এটা ঠিক। এমন চেষ্টা হলে পাকিস্তান হয়তো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে পারে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ফলে এই বিবাদে আমাদের মধ্যস্থতা করার সুযোগ কম।

তিনি বলেন, এর বাইরে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তি, কূটনৈতিক প্রভাবও খুব বেশি নয়। ফলে দু’পক্ষকে একই টেবিলে বসানোর কাজটি সত্যিই বাংলাদেশের জন্য ভীষণ কঠিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশ কি মধ্যস্থতা করতে পারে?

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। এরমধ্যে পানিচুক্তি স্থগিত, বাণিজ্য বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যুদ্ধের মহড়া ইত্যাদির নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অবশেষে ভূখণ্ডে হামলা-পাল্টা হামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

বুধবার (৭ মে) পাকিস্তানে সরাসরি হামলা করে ভারত। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করেছে পাকিস্তান। যদিও ভারত দাবি করছে, এই হামলায় নিহত হয়েছে ৭০ জনেরও বেশি।

ভারতের হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ১০ ভারতীয় নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনটি রাফায়েল বিমানসহ মোট পাঁচটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান।

এরইমধ্যে ভারতীয় হামলার পাল্টা জবাব দিতে সেনাবাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি)। ধারণা করা হচ্ছে ভারত যেভাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালিয়েছে, এবার পাকিস্তানও একইভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলা করবে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী এর মাধ্যমে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। আর তেমনটি হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ প্রবল ঝাঁকুনি খাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্য; ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিশ্বঅর্থনীতি।

বাংলাদেশের অবস্থান কী?

ভারত-পাকিস্তানের ভেতরে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৭ মে) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে উভয় দেশকে শান্ত থাকার কথা আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ভারত ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং উভয় দেশকে শান্ত থাকার, সংযত থাকার এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার চেতনায়, বাংলাদেশ আশাবাদী যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে শান্তি বিরাজ করবে।

এদিকে বাংলাদেশের এই অবস্থানকে সঠিক বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম। আরটিভির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর কিছু হবে না। এ দুই দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে কেউ জিতবে না। বরং দুটিই পক্ষই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমোড়লদের কেউ কেউ হয়তো চাইছেন উভয় দেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক। তাতে তাদের প্রভাব, অস্ত্রবিক্রি বা ব্যবসার সুযোগ বাড়বে। কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দুটি দেশের জন্যই যে বোকামি হবে, ধ্বংস ডেকে আনবে, সেটি দুই দেশের নীতি নির্ধারকদেরকেই বুঝতে হবে।

বাংলাদেশ কি মধ্যস্থতা করতে পারে?

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও বিশ্বব্যাপী ক্লিন ইমেজ তার সরকারের প্রতি বিশ্বমোড়লদের প্রশ্নহীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন এনে দিয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গেই ড. ইউনূসের সরকার যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া দুই দেশের ভেতরে উত্তেজনা প্রশমনেও বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি নিয়েও চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. শামছুল আলম আরটিভিকে বলেন, ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের ঐতিহাসিক বৈরীতা রয়েছে। এখানে মধ্যস্থতা ভীষণ কঠিন। কিন্তু ড. ইউনূসের যে পরিচিতি আছে, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আছে, তিনি প্রস্তাব দিতেই পারেন। সেটি দু’পক্ষ কতটা গ্রহণ করবে সেটা পরের বিষয়। কিন্তু এতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্বল হবে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের মানুষই যুদ্ধ চায় না। আমরাও চাই না। তাই দেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের মধ্যস্থতার প্রস্তাবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও একমত হবে। জিয়াউর রহমানও আন্তর্জাতিক বিবাদে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। ড. ইউনূসের পক্ষ থেকেও আমরা তেমনটাই আশা করি।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ শামস মুরসালিন আরটিভিকে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে এটা ঠিক। এমন চেষ্টা হলে পাকিস্তান হয়তো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে পারে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ফলে এই বিবাদে আমাদের মধ্যস্থতা করার সুযোগ কম।

তিনি বলেন, এর বাইরে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তি, কূটনৈতিক প্রভাবও খুব বেশি নয়। ফলে দু’পক্ষকে একই টেবিলে বসানোর কাজটি সত্যিই বাংলাদেশের জন্য ভীষণ কঠিন।