জুম্মু কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর তলানিতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। এরইমধ্যেই কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। ভারতের পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা ভারতের নাগরিকদের ভিসা বাতিল, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত, ভারতের উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধসহ বুধবার (২৩ এপ্রিল) বেশ কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপে দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় এয়ারলাইনসের জন্য আকাশসীমা বন্ধ
পাকিস্তান বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ভারতীয় এয়ারলাইনসের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায়, পশ্চিমমুখী আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে শুরু করেছে ভারতীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। বিশেষ করে নয়াদিল্লি, লখনউ ও অমৃতসর থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার দিকে যাওয়া উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে রুট পরিবর্তনের ফলে সময়, জ্বালানি খরচ ও অপারেশনাল জটিলতা বেড়েছে।
২০১৯ সালে বালাকোট স্ট্রাইকের পর আকাশসীমা বন্ধ থাকাকালীন ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলো প্রায় ৭০০ কোটি রূপি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। এবারও সেই ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো ইতিমধ্যে কিছু রুটে উড্ডয়নের সময় (ফ্লাইট আওয়ার) ১-২ ঘণ্টা বাড়িয়েছে, আবার কিছু ফ্লাইট বাতিলও করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্য দেশের এয়ারলাইনস যেহেতু পাকিস্তানের মূলভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়তে পারবে, তাই তাদের খরচ কম থাকবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভারতীয় সংস্থাগুলোর জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন : কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি
এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন রুটের ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ফ্লেক্সিবল রিবুকিং ও রিফান্ডের ব্যবস্থা রেখেছে। পূর্ণ আর্থিক প্রভাব জানতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
কাশ্মীরে হামলার কারণে সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার দেশে ফেরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেরার পথে মোদিকে বহনকারী উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে যায়। যা নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়।
কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীরা হামলা
গত মঙ্গলবার ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীরা হামলা চালান। এতে ২৫ ভারতীয়সহ ২৬ জন নিহত হন। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করে ভারত।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করছে, তাদের কাছে এমন তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যা হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার দিকেই নির্দেশ করে। যদিও ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামের একটি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেছে, তবে এই সংগঠনটি পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামলাকারীদের স্কেচ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাদের ধরতে জোরদার অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কাতার, জাপান, রাশিয়া ও চীনের মতো আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ভারতের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
ঢাকা ডেস্ক 









