০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • 74

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমানে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারবার বিদেশ যেতে চাইলেও অনুমতি দেয়নি শেখ হাসিনার সরকার। ফলে বাধ্য হয়েই দেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে জান খালেদা জিয়া।

সেখানে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মনিটরিং ও পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতির পথে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘ম্যাডাম তো দেশে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। লন্ডনে মুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার উন্নতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। তার চিকিৎসায় দেশীয় চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে। শুধু যে চিকিৎসা দেশে হয় না, তার জন্যই লন্ডনে যাওয়া।’

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যবঞ্চিত ছিলেন। প্রত্যেক মানুষের ভালো থাকার অন্তরালে যে মানসিক প্রশান্তির একটি বিষয় থাকে সেটি থেকে দূরে ছিলেন তিনি। লন্ডনে ভালো চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে বেশ উৎফুল্ল তিনি। ঈদের দিন তার বড় সন্তান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনের বাসায় মা ও স্ত্রী-সন্তানসহ একটি ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানেও খালেদা জিয়াকে বাহ্যিকভাবে প্রফুল্ল দেখা যায়। বিগত কয়েক বছরে তার এমন অবস্থা দেখা যায়নি বললেই চলে। শারীরিক অবস্থার উন্নতির পেছনে যে পরিবারের কাছে থাকারও একটি বড় ভূমিকা আছে সেটা অনুমেয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত সব বিষয়ে দেখভাল করেন।

লন্ডন থেকে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওনাকে টাইম টু টাইম দেখছেন। ম্যাডামের স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।’

ডা. জাহিদ আরও জানান, ওনার আরও যে ব্লক আছে, সেটা অ্যাড্রেস করা দরকার, ওনার ক্রনিক কিডনি ডিজিজ যেটা আছে, সেটা অ্যাড্রেস করতে হবে। করোনা পরবর্তীসময়ে কিছু জটিলতা হয়েছে, সেগুলো নিরসন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেশে এভার কেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়া যে চিকিৎসা পেয়েছিলেন তাতে পরিবারের সদস্যরাও সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক-স্টাফদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে পৌঁছালে পরদিন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর খালেদা জিয়ার বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তাদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া যথেষ্ট হাসিখুশি রয়েছেন। তার মনোবল অনেক শক্ত। তিনি দীর্ঘ জার্নি করে আসার পরও বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে না উঠে ছেলে তারেক রহমানের গাড়িতেই হাসপাতালে এসেছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতির আরও কিছু কারণ রয়েছে বলে জানা যায়। লন্ডনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনের একটি আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তার স্বাস্থ্যের যে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে, তার পেছনে রয়েছে একাধিক কার্যকর কারণ ও প্রতিকূলতামুক্ত চিকিৎসা পরিবেশ

আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও উন্নত যন্ত্রপাতির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে লন্ডনে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা-সহায়ক ব্যবস্থা সেখানে সহজলভ্য এবং নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রিত, ঠান্ডা ও দূষণমুক্ত আবহাওয়া তার শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন পর সন্তান ও নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারায় তিনি মানসিকভাবেও অধিকতর প্রফুল্ল রয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

লন্ডনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমানে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারবার বিদেশ যেতে চাইলেও অনুমতি দেয়নি শেখ হাসিনার সরকার। ফলে বাধ্য হয়েই দেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে জান খালেদা জিয়া।

সেখানে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মনিটরিং ও পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতির পথে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘ম্যাডাম তো দেশে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। লন্ডনে মুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার উন্নতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। তার চিকিৎসায় দেশীয় চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে। শুধু যে চিকিৎসা দেশে হয় না, তার জন্যই লন্ডনে যাওয়া।’

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যবঞ্চিত ছিলেন। প্রত্যেক মানুষের ভালো থাকার অন্তরালে যে মানসিক প্রশান্তির একটি বিষয় থাকে সেটি থেকে দূরে ছিলেন তিনি। লন্ডনে ভালো চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে বেশ উৎফুল্ল তিনি। ঈদের দিন তার বড় সন্তান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনের বাসায় মা ও স্ত্রী-সন্তানসহ একটি ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানেও খালেদা জিয়াকে বাহ্যিকভাবে প্রফুল্ল দেখা যায়। বিগত কয়েক বছরে তার এমন অবস্থা দেখা যায়নি বললেই চলে। শারীরিক অবস্থার উন্নতির পেছনে যে পরিবারের কাছে থাকারও একটি বড় ভূমিকা আছে সেটা অনুমেয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত সব বিষয়ে দেখভাল করেন।

লন্ডন থেকে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওনাকে টাইম টু টাইম দেখছেন। ম্যাডামের স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।’

ডা. জাহিদ আরও জানান, ওনার আরও যে ব্লক আছে, সেটা অ্যাড্রেস করা দরকার, ওনার ক্রনিক কিডনি ডিজিজ যেটা আছে, সেটা অ্যাড্রেস করতে হবে। করোনা পরবর্তীসময়ে কিছু জটিলতা হয়েছে, সেগুলো নিরসন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেশে এভার কেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়া যে চিকিৎসা পেয়েছিলেন তাতে পরিবারের সদস্যরাও সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক-স্টাফদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।

খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে পৌঁছালে পরদিন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর খালেদা জিয়ার বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তাদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া যথেষ্ট হাসিখুশি রয়েছেন। তার মনোবল অনেক শক্ত। তিনি দীর্ঘ জার্নি করে আসার পরও বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে না উঠে ছেলে তারেক রহমানের গাড়িতেই হাসপাতালে এসেছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতির আরও কিছু কারণ রয়েছে বলে জানা যায়। লন্ডনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনের একটি আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তার স্বাস্থ্যের যে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে, তার পেছনে রয়েছে একাধিক কার্যকর কারণ ও প্রতিকূলতামুক্ত চিকিৎসা পরিবেশ

আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও উন্নত যন্ত্রপাতির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে লন্ডনে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা-সহায়ক ব্যবস্থা সেখানে সহজলভ্য এবং নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রিত, ঠান্ডা ও দূষণমুক্ত আবহাওয়া তার শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন পর সন্তান ও নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারায় তিনি মানসিকভাবেও অধিকতর প্রফুল্ল রয়েছেন।