১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ারে বৈশাখী ঝড়, বিশ্বমঞ্চে বাংলা নববর্ষ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  • 65

বৃষ্টিস্নাত দিনে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার হয়ে উঠেছিল বৈশাখের রঙিন উৎসবমুখর দিন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হাজারো বাঙালি একত্রিত হয়ে সুর, সংগীত, ও নৃত্যে তাদের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। এই বছরের উৎসবের প্রথম দিনটি ১২ এপ্রিল টাইমস স্কয়ারে এবং দ্বিতীয় দিনটি ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসে পালিত হয়।

এবারের উৎসবটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়েছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম সাধক ও ‘ছায়ানট’ সংগঠনের সভাপতি প্রয়াত প্রফেসর ড. সনজীদা খাতুনকে। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেন থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের কনসুলার জেনারেলরা, যা বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে এক নতুন বৈশ্বিক আঙ্গিকে রূপ দেয়।

এই দুদিনের অনুষ্ঠানে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা এবং সহস্রকণ্ঠের গানে বাংলা বর্ষবরণ। কণ্ঠশিল্পী মহীতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সুরের সঙ্গে একযোগে সংস্কৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এছাড়া, নারীদের শাড়ি এবং পুরুষদের পাঞ্জাবিতে বর্ণিল পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলার জয় ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন : চীনা তরুণী বললেন আলহামদুলিল্লাহ

এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিশেষত্ব ছিল তার বহুমাত্রিকতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকার কনসাল জেনারেলরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, যা এই উৎসবকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। নিউইয়র্কে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে, এবং ২০২৫ সালে এসে তা আন্তর্জাতিক গুরুত্ব লাভ করেছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রাজ্য সরকার আগামী ২৮ এপ্রিল এই দিনটি উদযাপন করবে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের অনুরোধে সিনেটর লুইস সেপুলভেদার প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক আইনসভার অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এটি নিউইয়র্ক রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সেলিব্রেট করার এবং এখানে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

এই উৎসবটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে এবং বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের জন্য বাংলা নববর্ষ উদযাপনের একটি উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ারে বৈশাখী ঝড়, বিশ্বমঞ্চে বাংলা নববর্ষ

সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

বৃষ্টিস্নাত দিনে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার হয়ে উঠেছিল বৈশাখের রঙিন উৎসবমুখর দিন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হাজারো বাঙালি একত্রিত হয়ে সুর, সংগীত, ও নৃত্যে তাদের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। এই বছরের উৎসবের প্রথম দিনটি ১২ এপ্রিল টাইমস স্কয়ারে এবং দ্বিতীয় দিনটি ১৩ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসে পালিত হয়।

এবারের উৎসবটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়েছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম সাধক ও ‘ছায়ানট’ সংগঠনের সভাপতি প্রয়াত প্রফেসর ড. সনজীদা খাতুনকে। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেন থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের কনসুলার জেনারেলরা, যা বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে এক নতুন বৈশ্বিক আঙ্গিকে রূপ দেয়।

এই দুদিনের অনুষ্ঠানে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা এবং সহস্রকণ্ঠের গানে বাংলা বর্ষবরণ। কণ্ঠশিল্পী মহীতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সুরের সঙ্গে একযোগে সংস্কৃতির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এছাড়া, নারীদের শাড়ি এবং পুরুষদের পাঞ্জাবিতে বর্ণিল পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলার জয় ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন : চীনা তরুণী বললেন আলহামদুলিল্লাহ

এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিশেষত্ব ছিল তার বহুমাত্রিকতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকার কনসাল জেনারেলরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, যা এই উৎসবকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। নিউইয়র্কে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে, এবং ২০২৫ সালে এসে তা আন্তর্জাতিক গুরুত্ব লাভ করেছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রাজ্য সরকার আগামী ২৮ এপ্রিল এই দিনটি উদযাপন করবে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের অনুরোধে সিনেটর লুইস সেপুলভেদার প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক আইনসভার অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এটি নিউইয়র্ক রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সেলিব্রেট করার এবং এখানে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

এই উৎসবটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে এবং বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের জন্য বাংলা নববর্ষ উদযাপনের একটি উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।