ব্যবসায়ীরা যে প্রক্রিয়ায় ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছেন সেটার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও সরকার এ ব্যাপারে কিছুই জানতো না। এর আগেও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে সরকার সেটি মেনে নেয়নি, ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস আগের দামেই বিক্রি হয়েছে।’
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
ব্যবসায়ীরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে থাকলে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে, কেন নেবো না? আইনসঙ্গত আমাদের যে ব্যবস্থাগুলো আছে আমরা সবগুলো নেবো।’
তবে দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কোনো কারণ থাকলে সেটা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ আছে কী নেই, সেটা আমাদের পদক্ষেপের মাধ্যমে জানতে পারবেন। নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই আছে।’
সম্প্রতি কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার লিটারে বেড়েছে ৯ টাকা। নতুন করে বাজারে আসা পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯৬৫ টাকায়। আগের দাম ছিল ৯২২ টাকা। এ ছাড়া বোতলজাত প্রতি লিটার ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোতলজাত প্রতি লিটার এতদিন ১৮৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কিছুই জানতো না। এটা পরে জেনেছি। কোম্পানিগুলো সামগ্রিকভাবে একত্রিত হয়ে এ কাজটি (ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো) করেছে। সামগ্রিক একত্রিতভাবে করা এই কাজটি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’
এখন আপনারা কী করবেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করব। এটার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’
এর আগে গত অক্টোবরেও সরকারের অনুমতি ছাড়া ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছিল কোম্পানিগুলো। তখন সরকার জানায়, এভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোয় আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।’ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাজার তদারকি শিথিল হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে।’
ঢাকা ডেস্ক 









