১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এক নজরে দেশের ১২ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • 196

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই সংগ্রামের ইতিহাস। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে দেওয়া এক ঐতিহাসিক নির্বাচন ছিল ১৯৭০ এর নির্বাচন। এই নির্বাচন ছিল সমগ্র পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সার্বজনীন ও সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৭ টি আসনে একাই জয় লাভ করে। অর্থ্যাৎ পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব আসনই তারা দখল করে নেয়। পশ্চিম পাকিস্তানে ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৮১ টি আসন পায়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরই পরিনতিতে ঘটে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

প্রথম জাতীয় নির্বাচন

১৯৭৩ সালের ৭ ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগসহ ১৪ টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৬ মাস।

দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর দেশে সামরিক শাসনের যাত্রা শুরু হয় এবং এর সাড়ে তিন বছর পরে ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আয়োজন করে দেশে দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন। ১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনে ২৯ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে প্রায় ৫১.২৯ শতাংশ। নির্বাচনে বিএনপি ২০৭ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর।

তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন

১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অংশ নেয় মোট ২৮ টি রাজনৈতিক দল। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ভোটের হার ছিল প্রায় ৬৬.৩১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো একত্রে ১১৫ টি আসন পায়। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ৭৬ টি আসনে জয়লাভ করে। স্বল্প মেয়াদের এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৭ মাস।

চতুর্থ জাতীয় নির্বাচন

তৃতীয় নির্বাচনের ২ বছর পরে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে প্রায় ৫১.৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ৮ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৭ মাস।

পঞ্চম জাতীয় নির্বাচন

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সুষ্ঠু নির্বাচন বলে বিবেচিত হয়। নির্বাচনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মোট ৭৫ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫. ৪৫ শতাংশ। এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৮৮ টি ও জাতীয় পার্টি ৩৫ টি আসন পায়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ৪ বছর ৮ মাস।

৬ ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি,জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো রাজনৈকিত দল বর্জন করে। ৪১ টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এরমধ্যে ৪৯ টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। নির্বাচনে ১০ টি আসনে ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং ১ টি আসনের ফলাফল আদালতের রায়ে স্থগিত হয়। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ মাস।

সপ্তম জাতীয় নির্বাচন

দেশের ইতিহাসের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ জুন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৬ টি আসনে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৪.৯৬ শতাংশ। নির্বাচনে ৮১ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি ১১৬ টি এবং জাতীয় পার্টি ২৯ টি আসনে জয়লাভ করে। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ৫ বছর।

অষ্টম জাতীয় নির্বাচন

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ১ লা অক্টোবর। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৫.৫৯ শতাংশ। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩ টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৫৪ টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পায় ৬২ টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৭ টি আসন পায়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ৫ বছর।

নবম জাতীয় নির্বাচন

২০০৬ সালের শেষে বাংলাদেশে শুরু হয় রাজনৈতিক অচলাবস্থা। সড়কে সংঘর্ষ, দলীয় সহিংসতা এবং এরই পড়ে আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এর দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এটি সর্বশেষ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম নির্বাচন।

দশম জাতীয় নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত একটি নির্বাচন। যাতে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বয়কট করে। নির্বাচনে মোট ১২ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে একচেটিয়াভাবে ২৩৪ টি আসনে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৪০.০৪ শতাংশ।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এতে ৩৯ টি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নেয়। মোট প্রার্থী ছিলেন ১,৮৬৫ জন। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০.২০ শতাংশ। এই নির্বাচন বৈধতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট এই নির্বাচন বয়কট করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে একচেটিয়াভাবে ২২৩ টি আসনে জয়লাভ করে। ফলে শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪০-৪২ শতাংশ।

উল্লেখ্যে, একটি দেশের নির্বাচন শুধু ভোটের প্রতিচ্ছবি নয় বরং এটি একটি জাতির রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতিচ্ছবি যেক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

এক নজরে দেশের ১২ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সর্বশেষ আপডেট : ০২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই সংগ্রামের ইতিহাস। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে দেওয়া এক ঐতিহাসিক নির্বাচন ছিল ১৯৭০ এর নির্বাচন। এই নির্বাচন ছিল সমগ্র পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সার্বজনীন ও সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৭ টি আসনে একাই জয় লাভ করে। অর্থ্যাৎ পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব আসনই তারা দখল করে নেয়। পশ্চিম পাকিস্তানে ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৮১ টি আসন পায়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরই পরিনতিতে ঘটে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

প্রথম জাতীয় নির্বাচন

১৯৭৩ সালের ৭ ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগসহ ১৪ টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৬ মাস।

দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর দেশে সামরিক শাসনের যাত্রা শুরু হয় এবং এর সাড়ে তিন বছর পরে ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আয়োজন করে দেশে দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন। ১৯৭৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনে ২৯ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে প্রায় ৫১.২৯ শতাংশ। নির্বাচনে বিএনপি ২০৭ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর।

তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন

১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অংশ নেয় মোট ২৮ টি রাজনৈতিক দল। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ভোটের হার ছিল প্রায় ৬৬.৩১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো একত্রে ১১৫ টি আসন পায়। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ৭৬ টি আসনে জয়লাভ করে। স্বল্প মেয়াদের এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৭ মাস।

চতুর্থ জাতীয় নির্বাচন

তৃতীয় নির্বাচনের ২ বছর পরে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে প্রায় ৫১.৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ৮ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ২ বছর ৭ মাস।

পঞ্চম জাতীয় নির্বাচন

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সুষ্ঠু নির্বাচন বলে বিবেচিত হয়। নির্বাচনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মোট ৭৫ টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫. ৪৫ শতাংশ। এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৮৮ টি ও জাতীয় পার্টি ৩৫ টি আসন পায়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ৪ বছর ৮ মাস।

৬ ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি,জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো রাজনৈকিত দল বর্জন করে। ৪১ টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এরমধ্যে ৪৯ টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। নির্বাচনে ১০ টি আসনে ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং ১ টি আসনের ফলাফল আদালতের রায়ে স্থগিত হয়। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ মাস।

সপ্তম জাতীয় নির্বাচন

দেশের ইতিহাসের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ জুন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৬ টি আসনে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৪.৯৬ শতাংশ। নির্বাচনে ৮১ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি ১১৬ টি এবং জাতীয় পার্টি ২৯ টি আসনে জয়লাভ করে। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ৫ বছর।

অষ্টম জাতীয় নির্বাচন

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ১ লা অক্টোবর। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৫.৫৯ শতাংশ। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩ টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ৫৪ টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পায় ৬২ টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৭ টি আসন পায়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল ৫ বছর।

নবম জাতীয় নির্বাচন

২০০৬ সালের শেষে বাংলাদেশে শুরু হয় রাজনৈতিক অচলাবস্থা। সড়কে সংঘর্ষ, দলীয় সহিংসতা এবং এরই পড়ে আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এর দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এটি সর্বশেষ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম নির্বাচন।

দশম জাতীয় নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত একটি নির্বাচন। যাতে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বয়কট করে। নির্বাচনে মোট ১২ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে একচেটিয়াভাবে ২৩৪ টি আসনে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৪০.০৪ শতাংশ।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এতে ৩৯ টি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নেয়। মোট প্রার্থী ছিলেন ১,৮৬৫ জন। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০.২০ শতাংশ। এই নির্বাচন বৈধতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট এই নির্বাচন বয়কট করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে একচেটিয়াভাবে ২২৩ টি আসনে জয়লাভ করে। ফলে শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪০-৪২ শতাংশ।

উল্লেখ্যে, একটি দেশের নির্বাচন শুধু ভোটের প্রতিচ্ছবি নয় বরং এটি একটি জাতির রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতিচ্ছবি যেক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।