রক্তের গ্রুপের ধরনই অনেক সময় নির্ধারণ করে দিতে পারে ভবিষ্যতে স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা—সম্প্রতি নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কম বয়সীদের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের রক্তধারীরা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। তাদের পরেই অবস্থান করছে ‘বি’ গ্রুপ। অন্যদিকে, ‘ও’ গ্রুপের মানুষদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
বিশ্বব্যাপী ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক রোগী এবং ৬ লাখ সুস্থ ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেন গবেষকরা। অংশগ্রহণকারীরা মূলত উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা ছিলেন।
আরও পড়ুন : ক্যানসার চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের সফল আবিষ্কার
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী—
- ‘এ’ গ্রুপধারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি গড়ে ১৬% বেশি
- ‘বি’ গ্রুপের ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রায় ১১% বেশি
- অন্যদিকে, ‘ও’ গ্রুপের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় ১২% কম
গবেষকদের মতে, ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়, যা ভেনাস থ্রম্বোসিস নামে পরিচিত। এটি স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ হতে পারে।
তবে ষাটোর্ধ্বদের ক্ষেত্রে এই ফলাফল ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। বয়স্কদের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের রক্তধারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, কম বয়সী ও প্রবীণদের স্ট্রোকের কারণ আলাদা হতে পারে।
মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ভাস্কুলার নিউরোলজিস্ট ড. স্টিভেন কিটনার বলেন, “আমরা এখনও নিশ্চিত নই কেন ‘এ’ গ্রুপধারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি। সম্ভবত রক্ত জমাট বাঁধা, প্লেটলেট সক্রিয়তা বা সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রোটিনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কারণ এতে জড়িত।”
তবে গবেষকরা আশ্বস্ত করেছেন—এই ফলাফলের ভিত্তিতে ‘এ’ গ্রুপের রক্তধারীদের অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এদের জন্য আলাদা কোনো স্ক্রিনিং বা বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার প্রয়োজনও নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে চারজনের তিনজনের বয়স ৬৫ বছরের ওপরে, যদিও ৫৫ বছরের পর থেকে প্রতি ১০ বছর পরপর স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ঢাকা ডেস্ক 















