০১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে ৩ পাহাড়ি নিহত, ১৩ সেনা-পুলিশসহ আহত অনেকে

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 104

খাগড়াছড়িতে সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর টানা অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়া এ সময় মেজরসহ ১৩ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খাগড়াছড়িতে নিহতের ঘটনায় কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেয়া হবে না। হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত এবং মেজরসহ ১৩ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য এবং আরো অনেকে আহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে শান্ত থাকার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় শয়ন শীল (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাহাড়ি সংগঠনগুলো শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দেয়। অবরোধ চলাকালে বিভিন্নস্থানে গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। এ সময় আলুটিলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং নারানখাইয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন : খাগড়াছড়িতে থমথমে পরিস্থিতি, অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা চলছে

এই ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

তবে সহিংসতা ঠেকাতে প্রশাসন পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রোববার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকা, মহাজনপাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার ও শহীদ কাদের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্বনির্ভর ও নারিকেল বাগান এলাকায় কয়েকটি দোকানে হামলা চালানো হয়।

সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাতেই বৌদ্ধবিহারে নাশকতার প্রস্তুতিকালে তিন যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে পরিস্থিতি উতপ্ত হওয়ায় সাজেকে প্রায় ২ হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহশ্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

খাগড়াছড়িতে ৩ পাহাড়ি নিহত, ১৩ সেনা-পুলিশসহ আহত অনেকে

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর টানা অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়া এ সময় মেজরসহ ১৩ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খাগড়াছড়িতে নিহতের ঘটনায় কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেয়া হবে না। হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত এবং মেজরসহ ১৩ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য এবং আরো অনেকে আহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে শান্ত থাকার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় শয়ন শীল (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাহাড়ি সংগঠনগুলো শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দেয়। অবরোধ চলাকালে বিভিন্নস্থানে গাছ ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। এ সময় আলুটিলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং নারানখাইয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন : খাগড়াছড়িতে থমথমে পরিস্থিতি, অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা চলছে

এই ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

তবে সহিংসতা ঠেকাতে প্রশাসন পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রোববার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকা, মহাজনপাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার ও শহীদ কাদের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্বনির্ভর ও নারিকেল বাগান এলাকায় কয়েকটি দোকানে হামলা চালানো হয়।

সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাতেই বৌদ্ধবিহারে নাশকতার প্রস্তুতিকালে তিন যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে পরিস্থিতি উতপ্ত হওয়ায় সাজেকে প্রায় ২ হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহশ্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।