সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শুয়ে আছেন ২৮ বছর বয়সী কবির হোসেন। কয়েকদিন ধরে উচ্চ জ্বর, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা আর ঘন ঘন বাথরুমে যেতে হচ্ছে তাকে। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলেও পরে পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ঠিক একই চিত্র নওগাঁর সুলতান আহমেদেরও। দু’জনই জীবনের সবচেয়ে কর্মব্যস্ত সময়ে, ত্রিশের আগেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে শয্যাশায়ী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৮৭ জন। এর মধ্যে ৯৪ জনের বয়স ত্রিশের নিচে। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যু ঘটেছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
কেন তরুণরা বেশি আক্রান্ত?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি কর্মজীবনে সক্রিয়। তাদেরকে প্রতিদিন বাজার, অফিস, নির্মাণস্থান কিংবা রাস্তায় বের হতে হয়। বেশিরভাগ সময়ই তারা ‘আনপ্রটেকটেড’ অবস্থায় থাকেন—যেখানে মশার কামড়ের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন : টঙ্গীর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ফায়ার সার্ভিস ইন্সপেক্টর নাঈম
ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, তরুণরা সাধারণত নিজেদের শক্তিশালী ভেবে জ্বরকে হালকাভাবে নেয়। শিশু ও বৃদ্ধদের মতো দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান না। এ অবহেলা অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
মৃত্যুর মূল কারণ ‘শক সিনড্রোম’
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর বড় কারণ হলো সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেরি করলে শরীর দ্রুত ‘শক সিনড্রোম’-এ চলে যায়। তখন রোগীর রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়, অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। একবার এই অবস্থা তৈরি হলে চিকিৎসকদের হাতে আর খুব বেশি সময় থাকে না।
ডা. নাজমুল আহসান বলেন, “বেশিরভাগ তরুণ রোগী হাসপাতালে আসতে দেরি করে। যখন আসে, তখন শরীরে শক দেখা দেয়। এ অবস্থায় রোগীকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।”
অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, তরুণরা সাধারণত ওয়ার্নিং সাইন উপেক্ষা করেন। যেমন—তিনবারের বেশি বমি, পেটে ব্যথা, শরীরের কোথাও রক্ত পড়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তি। অথচ এসব দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু আর শুধু শিশু বা বৃদ্ধের রোগ নয়। কর্মব্যস্ত তরুণরাই এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে। অবহেলা, দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ আর শক সিনড্রোমই তাদের মৃত্যুর বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর হলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করা এবং ডেঙ্গু শনাক্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই তরুণ প্রজন্মকে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে।
ঢাকা ডেস্ক 









