১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাঁশবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, প্রাণ গেল পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৩ জনের

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 85

নড়াইল-যশোর মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও বাঁশবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও আরও দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙুড়া বাজার এলাকায়।

প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন— নড়াইলের লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নিক্কন আঢ্য (৩৫), যশোর সদরের বসুন্দিয়া এলাকার আক্তার হোসেন এবং যশোর শহরতলীর ভেকুটিয়া গ্রামের আবু জাফর। নিহত আবু জাফর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, মহাসড়কে একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে যশোরগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তীব্র আঘাতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাঁশ ঢুকে পড়ে ভেতরে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আক্তার হোসেন। গুরুতর আহত হন আবু জাফর ও এসআই নিক্কন আঢ্য।

আরও পড়ুন : জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত বিএনপি : সালাহউদ্দিন

দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু জাফর মারা যান। পরে এসআই নিক্কনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই নিক্কন আঢ্য যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিশিকান্ত আঢ্যের ছেলে এবং ৩৭তম ব্যাচের আউটসাইড ক্যাডেট হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রে যোগ দেন। এর আগে তিনি র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন। আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

নিক্কনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সম্মতিতে সোমবার সকালে জেলা পুলিশ লাইন্সে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দুপুরে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বাঁশবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, প্রাণ গেল পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৩ জনের

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নড়াইল-যশোর মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও বাঁশবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও আরও দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙুড়া বাজার এলাকায়।

প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন— নড়াইলের লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নিক্কন আঢ্য (৩৫), যশোর সদরের বসুন্দিয়া এলাকার আক্তার হোসেন এবং যশোর শহরতলীর ভেকুটিয়া গ্রামের আবু জাফর। নিহত আবু জাফর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, মহাসড়কে একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে যশোরগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তীব্র আঘাতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাঁশ ঢুকে পড়ে ভেতরে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আক্তার হোসেন। গুরুতর আহত হন আবু জাফর ও এসআই নিক্কন আঢ্য।

আরও পড়ুন : জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত বিএনপি : সালাহউদ্দিন

দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু জাফর মারা যান। পরে এসআই নিক্কনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই নিক্কন আঢ্য যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিশিকান্ত আঢ্যের ছেলে এবং ৩৭তম ব্যাচের আউটসাইড ক্যাডেট হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রে যোগ দেন। এর আগে তিনি র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন। আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

নিক্কনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সম্মতিতে সোমবার সকালে জেলা পুলিশ লাইন্সে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দুপুরে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।