মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ ফুসফুস। এই শ্বাসযন্ত্রটির প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে নেওয়া এবং রক্তপ্রবাহ হতে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বাতাসে নিষ্কাশন করা।
বাতাসে ভাসমান বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়ার এবং ধূলিকণার আক্রমণে প্রথম আক্রান্ত হয় ফুসফুস। সেখান থেকেই নানা সংক্রমণ, অ্যাজ়মা, সিওপিডি-র মতো যাবতীয় রোগের শুরু হয়। এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারও।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কয়েকটি বিশেষ খাবার খেলে ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলে।
চলুন জেনে নেই–
লেবু
ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি খাবার লেবু। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন। চাইলে এতে খানিকটা মধুও যোগ করতে পারেন।
সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে।
আদা
আদার মধ্যে উপস্থিত প্রদাহ-বিরোধী উপাদান ফুসফুসের প্রদাহ কমায়। এটি শ্লেষ্মা বের করে দিতে সাহায্য করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখে।
হলুদ
হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন ফুসফুসকে খুব ভালভাবে পরিষ্কার করে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। হালকা গরম জলে হলুদ এবং লেবু মিশিয়ে একটি ডিটক্স পানীয় তৈরি করে খান।
রসুন
রসুন শ্লেষ্মা ভেঙে দেয়, ফুসফুস পরিষ্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এতে থাকা অ্যালিসিন প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। খালি পেটে এক বা দুটি কোয়া কাঁচা রসুন খান। এটি মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন।
পানি পান করা
আরও পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা: শীর্ষ ৩ পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের জয়
পানি পান করলে শরীরের অর্ধেক রোগই সেরে যায়। বুকে জমা সর্দি বা কফ পাতলা করতেও সাহায্য করে পানি। এ ছাড়াও শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ থেকে দূষিত পদার্থ বাইরে বের করার ক্ষেত্রে পানির ভূমিকা রয়েছে।
তুলসী
তুলসীতে উপস্থিত ইউজেনল উপাদান সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে। তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও তুলসীর চা বানিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। এছাড়াও মধুর সঙ্গে তুলসীর রস মিশিয়ে খান।
গ্রিন টি: গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে ফ্ল্যাবিনয়েড নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ফুসফুসের কার্য পরিচালনায় সহায়তা করে। সে সঙ্গে ফুসফুস থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
ধূমপান না করা
ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য দূষণ এবং ধূলিকণার দোষ যদি হয় ৬০ শতাংশ, তা হলে ৪০ শতাংশ দায় কিন্তু ধূমপানের। এই আবহাওয়ায় ফুসফুসের জটিল রোগ ‘সিওপিডি’ বেড়ে যাওয়ার জন্যও দায়ী সেই ধূমপান। তবে সিগারেট থেকে শুধু প্রত্যক্ষ ধূমপায়ীরা নন, আশপাশে পরোক্ষ ধূমপায়ীরাও কিন্তু আক্রান্ত হন।
ব্যায়াম: শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ব্যায়াম ফুসফুসকে ভালো রাখে। এ জন্য এরোবিক্স, ইয়োগা বা কার্ডিও এক্সারসাইজ প্রতিদিন করতে হবে।
ঢাকা ডেস্ক 









