১১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

৩৩ বছর পর চর খনন করে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 93

ছবি : সংগৃহীত

বরিশালের  তেঁতুলিয়া নদীতে ৩৩ বছর আগে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া ‘এমবি মোস্তাবি’ নামের জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজটি চর খনন করে ৭০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের মিঠুয়া গ্রাম সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে ইঞ্জিনসহ জাহাজের অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করেন শ্রমিকরা।

উদ্ধারকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেঁতুলিয়া নদীতে ৩৩ বছর আগে পণ্যবাহী ওই জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে নদীর তলদেশে জাহাজ ডুবে যাওয়া স্থানে পলি জমে চর পড়ে যায়। এক যুগের বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর সেই চর খনন করে প্রায় ৭০ ফুট নিচ থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বাসর রাতেই স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন নববধূ, অতঃপর…

এর আগে একাধিক উদ্ধারকারী দল জাহাজটি তোলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সবশেষ উদ্ধারে নিলামের জন্য ২০০৫ সালে দরপত্র ডাকে বিআইডব্লিউটিএ। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০ লাখ টাকায় নিলাম পায় খুলনার ‘অগ্রণী ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনসার উদ্দিন মারা যাওয়ার আগে কাজটি কিনে নেন সাব ঠিকাদার বরিশালের বাসিন্দা মো. ইউসুফ মিয়া।

ইউসুফ মিয়া বলেন, ‌‘২০১২ সাল থেকে কয়েক দফা জাহাজটি তোলার চেষ্টা করলেও উদ্ধার করতে পারিনি। চার মাস আগে আবার প্রায় পাঁচ একর জমি ও ৪৮ ফুট চর খনন করে এটি তোলা হয়। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় তিনটি শক্তিশালী বিকে বার্জ (নদী বা সমুদ্রের অগভীর পানিতে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়), বিশেষ ধরনের ক্রেন, ডুবুরি ও আধুনিক প্রযুক্তি। শ্রমিক ছিলেন শতাধিক। উদ্ধার জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ১৪ ফুট এবং উচ্চতা ১৭ ফুট। দামি যন্ত্রাংশের মধ্যে আছে ইঞ্জিনসহ অন্যান্য মালামাল।’

উপজেলার চর গোপালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. মাসুদ জানান, ১৯৯২ সালে জাহাজটি সেখানে ডুবে যায়। এরপর সরকারি-বেসরকারিভাবে উদ্ধারের চেষ্টা চলে। কিন্তু কোনোভাবেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের ওই অংশে চর পড়তে শুরু করে। ২০১২ সালের দিকে চর দৃশ্যমান হয়। এরপর থেকে সেখান দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ১০ একরের বেশি জমিজুড়ে চর জাগে। সেগুলোতে মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে পুরো জাহাজটি দৃশ্যমান হয়। পরে খণ্ড খণ্ড কেটে উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : জাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম থেকে বৈদ্যুতিক মালামাল নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল জাহাজটি। মিঠুয়া গ্রাম সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ সেটি ডুবে যায়। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তখন সরকারি উদ্যোগে কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পরে জাহাজটিকে আর পানির নিচ থেকে তোলা সম্ভব হয়নি।

জাহাজ উত্তোলনের কাজে জড়িত খুলনার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন, ‘এক যুগের বেশি সময় ধরে খননকাজ চালিয়ে কেটে কেটে জাহাজটি তোলা হয়। কয়েক দশক ধরে নদীর তলদেশে থাকার পরও জাহাজের রং প্রায় অক্ষুণ্ন আছে। কাঠামোর প্লেটগুলো এখনও মজবুত আছে।  জাহাজের দামি জিনিসের মধ্যে রয়েছে  ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মেশিন । কিন্তু এখন ভাঙারি হিসেবে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে জাহাজটি উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন এটি কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করা হচ্ছে।’

বিআইডব্লিউটিএর সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের বরিশালের যুগ্ম পরিচালক আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘মেহেন্দীগঞ্জে ডুবে যাওয়া নৌযানটি উদ্ধার করা হয়েছে।’

 

এদিকে, পুরোনো জাহাজ তোলার খবর শুনে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুঁটে আসছেন  অনেক উৎসুক জনতা।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

৩৩ বছর পর চর খনন করে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার

সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বরিশালের  তেঁতুলিয়া নদীতে ৩৩ বছর আগে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া ‘এমবি মোস্তাবি’ নামের জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজটি চর খনন করে ৭০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের মিঠুয়া গ্রাম সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে ইঞ্জিনসহ জাহাজের অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করেন শ্রমিকরা।

উদ্ধারকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেঁতুলিয়া নদীতে ৩৩ বছর আগে পণ্যবাহী ওই জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে নদীর তলদেশে জাহাজ ডুবে যাওয়া স্থানে পলি জমে চর পড়ে যায়। এক যুগের বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর সেই চর খনন করে প্রায় ৭০ ফুট নিচ থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বাসর রাতেই স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন নববধূ, অতঃপর…

এর আগে একাধিক উদ্ধারকারী দল জাহাজটি তোলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সবশেষ উদ্ধারে নিলামের জন্য ২০০৫ সালে দরপত্র ডাকে বিআইডব্লিউটিএ। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০ লাখ টাকায় নিলাম পায় খুলনার ‘অগ্রণী ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনসার উদ্দিন মারা যাওয়ার আগে কাজটি কিনে নেন সাব ঠিকাদার বরিশালের বাসিন্দা মো. ইউসুফ মিয়া।

ইউসুফ মিয়া বলেন, ‌‘২০১২ সাল থেকে কয়েক দফা জাহাজটি তোলার চেষ্টা করলেও উদ্ধার করতে পারিনি। চার মাস আগে আবার প্রায় পাঁচ একর জমি ও ৪৮ ফুট চর খনন করে এটি তোলা হয়। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় তিনটি শক্তিশালী বিকে বার্জ (নদী বা সমুদ্রের অগভীর পানিতে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়), বিশেষ ধরনের ক্রেন, ডুবুরি ও আধুনিক প্রযুক্তি। শ্রমিক ছিলেন শতাধিক। উদ্ধার জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ১৪ ফুট এবং উচ্চতা ১৭ ফুট। দামি যন্ত্রাংশের মধ্যে আছে ইঞ্জিনসহ অন্যান্য মালামাল।’

উপজেলার চর গোপালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. মাসুদ জানান, ১৯৯২ সালে জাহাজটি সেখানে ডুবে যায়। এরপর সরকারি-বেসরকারিভাবে উদ্ধারের চেষ্টা চলে। কিন্তু কোনোভাবেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের ওই অংশে চর পড়তে শুরু করে। ২০১২ সালের দিকে চর দৃশ্যমান হয়। এরপর থেকে সেখান দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ১০ একরের বেশি জমিজুড়ে চর জাগে। সেগুলোতে মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে পুরো জাহাজটি দৃশ্যমান হয়। পরে খণ্ড খণ্ড কেটে উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : জাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম থেকে বৈদ্যুতিক মালামাল নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাচ্ছিল জাহাজটি। মিঠুয়া গ্রাম সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ সেটি ডুবে যায়। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তখন সরকারি উদ্যোগে কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পরে জাহাজটিকে আর পানির নিচ থেকে তোলা সম্ভব হয়নি।

জাহাজ উত্তোলনের কাজে জড়িত খুলনার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন, ‘এক যুগের বেশি সময় ধরে খননকাজ চালিয়ে কেটে কেটে জাহাজটি তোলা হয়। কয়েক দশক ধরে নদীর তলদেশে থাকার পরও জাহাজের রং প্রায় অক্ষুণ্ন আছে। কাঠামোর প্লেটগুলো এখনও মজবুত আছে।  জাহাজের দামি জিনিসের মধ্যে রয়েছে  ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মেশিন । কিন্তু এখন ভাঙারি হিসেবে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে জাহাজটি উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন এটি কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করা হচ্ছে।’

বিআইডব্লিউটিএর সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের বরিশালের যুগ্ম পরিচালক আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘মেহেন্দীগঞ্জে ডুবে যাওয়া নৌযানটি উদ্ধার করা হয়েছে।’

 

এদিকে, পুরোনো জাহাজ তোলার খবর শুনে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুঁটে আসছেন  অনেক উৎসুক জনতা।