ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় মাদকচক্রের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন খবর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে পুয়ের্তো রিকোতে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ভেতরে মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে টার্গেট করার পরিকল্পনা করছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুয়ের্তো রিকোর বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে, তবে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে সম্পর্ক আরও সংকটময় হয়ে উঠবে। এরইমধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন : ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনির মাটিতে ঝড়ল ৬৯ প্রাণ
খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, “আমাদের দেশে সহিংস সরকার পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা মেনে নেওয়া হবে না। ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব, শান্তি ও স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হবে।”
তবে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানান তিনি। মাদুরো বলেন, “আমরা সবসময় সংলাপে আগ্রহী। ভেনেজুয়েলা যুদ্ধ নয়, সমাধান চায়।”
মার্কিন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মাদুরো। তিনি বলেন, “আমাদের ভূমিতে হামলা চালানো হলে দেশটি সঙ্গে সঙ্গেই সশস্ত্র প্রতিরোধের যুগে প্রবেশ করবে।”
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। তবে দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো পুনর্নির্বাচিত হন। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ সেই নির্বাচনকে অবৈধ বলে সমালোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা শুধু লাতিন আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভেনেজুয়েলা শুধু অভ্যন্তরীণ সংকটেই নয়, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার দিকেও ধাবিত হতে পারে।
ঢাকা ডেস্ক 









